দেশের প্রতিটি নাগরিকের দোরগোড়ায় মানসম্মত ও নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করা বর্তমান প্রশাসনের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একটি সুশৃঙ্খল ও পরিকল্পিত নগরায়ণ কাঠামো দাঁড় করানোর অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে দেশের সমস্ত প্রশাসনিক জেলায় বিশদ মাস্টারপ্ল্যান তৈরির কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি, প্রধান শহরগুলোর ওপর অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপ কমিয়ে আনার কার্যকর উপায় নিয়েও রূপরেখা প্রস্তুত করা হচ্ছে।
গত সোমবার রাজধানী ঢাকার ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব বসতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির আসন অলংকৃত করে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন। জনবহুল এই ভূখণ্ডের প্রতিটি মানুষের জন্য মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন ও নিরাপদ আবাসন গড়ে তোলাকে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা ও নানামুখী প্রতিকূলতা জয় করেই এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দৃঢ় পদক্ষেপে এগিয়ে যেতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তৃতায় উল্লেখ করেন যে, দেশের বড় বড় শহরাঞ্চলগুলোতে আজ স্বাভাবিক ধারণক্ষমতার তুলনায় বহুগুণ বেশি মানুষ বসবাস করছে। এই অস্বাভাবিক চাপ সামাল দিতে এবং টেকসই বসতি গড়ে তুলতে এখনই সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপ নেওয়া আবশ্যক। জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষা ও প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার বাস্তবায়নে সরকার সর্বোচ্চ মাত্রায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কেবল নির্দিষ্ট কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের উন্নতি নয়, বরং প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ এবং সুষম আঞ্চলিক উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের প্রতিটি প্রান্তের মানুষের কাছে উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দেওয়াই সরকারের মূল দর্শন।
বর্তমান সময়ের বিভিন্ন বৈশ্বিক সংকট ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও অতি দ্রুততম সময়ের মধ্যে জনসাধারণের আবাসন সমস্যা সমাধানের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে প্রশাসন। তবে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ কেবল এককভাবে সরকারের পক্ষে পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি আবাসন খাতসহ সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান। পরিকল্পিত উন্নয়নের স্বার্থে ব্লকভিত্তিক আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা, জনসাধারণের জন্য পর্যাপ্ত খেলার মাঠ সংরক্ষণ এবং সুনির্দিষ্ট জোন বা এলাকায় শিল্পাঞ্চল স্থাপনের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সরাসরি তত্ত্বাবধানে এবং ‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের নীতিনির্ধারক, মন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।






















