লাতিন আমেরিকার বৃহত্তম অর্থনীতি ও গণতন্ত্র দেশ ব্রাজিলে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ প্রথম দফার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বর্তমান বামপন্থী প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা এবং ডানপন্থী সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো তাদের নিজ নিজ রাজনৈতিক শিবিরের প্রচার কার্যক্রম শেষ করে এখন চূড়ান্ত ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছেন। সাও পাওলোতে বিশাল সমাপনী মিছিলের মধ্য দিয়ে প্রচারণা সমাপ্ত করে ৮০ বছর বয়সী লুলা এই নির্বাচনকে গণতন্ত্র রক্ষা এবং চরম ডানপন্থীদের পরাজিত করার লড়াই হিসেবে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে, কারাবন্দি সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর ছেলে ৪৫ বছর বয়সী ফ্লাভিও বলসোনারো রিও ডি জেনেইরো ও সাও পাওলোর বিভিন্ন এলাকায় শোডাউন করে প্রথম দফাতেই জয়ের ব্যাপারে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
নির্বাচনি প্রচারের শেষ মুহূর্তের জনমত জরিপগুলো বলছে যে, লুলা সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও দুই প্রধান প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। প্রথম দফার এই ভোটে কোনো প্রার্থীই বিজয়ের জন্য প্রয়োজনীয় একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারলে আগামী ২৫ অক্টোবর দ্বিতীয় দফার চূড়ান্ত রান-অফ নির্বাচনে মুখোমুখি হতে হবে। বিগত ২০২২ সালের সাধারণ নির্বাচনের তুলনায় এবারের রাজনৈতিক পরিবেশ অনেক বেশি জটিল ও মেরুকরণে পূর্ণ, যেখানে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং মুদ্রাস্ফীতির মতো বিষয়গুলো ভোটারদের মনে গভীর প্রভাব ফেলেছে।
এবারের নির্বাচনী প্রচারণায় ওয়াশিংটনের সম্ভাব্য রাজনৈতিক আগ্রহ ও ভূমিকা এক অন্যতম আলোচিত ও বিতর্কিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে। লুলার সমর্থকেরা মার্কিন এই মনোযোগকে ব্রাজিলের সার্বভৌমত্ব ও অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে সরাসরি বিদেশি হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। এর বিপরীতে, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে হতাশ কিছু বলসোনারো সমর্থক মনে করছেন যে কাঠামোগত পরিবর্তন ও সংস্কার সাধনে বিদেশি চাপ ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের এই বিশাল কর্মযজ্ঞের পাশাপাশি আজ ব্রাজিলের প্রায় ১৬ কোটি নিবন্ধিত ভোটার একই সঙ্গে দেশের আইনপ্রণেতা, বিভিন্ন রাজ্যের গভর্নর ও সিনেটর নির্বাচনের জন্যও তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। সাম্প্রতিক সময়ে লাতিন আমেরিকার সামগ্রিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ডানপন্থী রাজনৈতিক ধারার প্রভাব ও জনসমর্থন বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে আজকের এই বহুমুখী নির্বাচনী ফলাফল দেশটির ভবিষ্যৎ অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক নীতির গতিপথ নির্ধারণে অত্যন্ত নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করবে।























