Dhaka ১১:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে বন্দি ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে পিটিআইয়ের আলোচনা শুরু

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ১০:১৯:৪০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
  • ১২ বার দেখা হয়েছে

কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পুনর্বহালসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দাবিতে বর্তমান পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করেছে প্রধান বিরোধী দল পিটিআই। জাতীয় পরিষদের স্পিকার আয়াজ সাদিকের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত প্রথম দফার বৈঠকের পর, দলটির ছয় সদস্যের আলোচনাকারী কমিটি ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ নিশ্চিত করাকেই তাদের পরবর্তী আলোচনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হিসেবে নির্ধারণ করেছে। তবে সমঝোতার পথ এখনো পুরোপুরি মসৃণ হয়ে ওঠেনি, কারণ উভয় পক্ষের মৌলিক কিছু ইস্যুতে অবস্থান ও দৃষ্টিভঙ্গি বেশ ভিন্ন রয়েছে।

গত শুক্রবার সরকারি প্রতিনিধি, পিটিআই এবং পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) নেতাদের অংশগ্রহণে এই সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিরোধীদের পক্ষ থেকে কারাবন্দি ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ ছাড়াও তার বোনদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া এবং সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী কোনো ব্যক্তিগত হাসপাতালে তার সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার মতো বেশ কিছু আস্থাবর্ধক পদক্ষেপের জোরালো দাবি জানানো হয়। তবে সরকারি পক্ষ থেকে এসব দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ইতিবাচক বা সুনির্দিষ্ট প্রতিক্রিয়া দেখানো হয়নি।

প্রথম দফার বৈঠক শেষে পিটিআইয়ের আলোচনাকারী দলটি পেশোয়ারে গিয়ে খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি এবং বিরোধী নেতা মাহমুদ আচাকজাইয়ের সঙ্গে বৈঠক করে আলোচনার বিস্তারিত বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে। অন্যদিকে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নকভি লাহোরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের কাছে বৈঠকের সামগ্রিক অগ্রগতি সম্পর্কে প্রতিবেদন পেশ করেন। দুই পক্ষের মধ্যে সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলেও সরকারের পক্ষ থেকে ইসলামাবাদ অভিমুখী সম্ভাব্য লং মার্চ বা যেকোনো ধরনের বিক্ষোভের পরিকল্পনা শর্তহীনভাবে বাতিলের জন্য কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে।

লং মার্চ কর্মসূচি নিয়ে সরকারের কঠোর অবস্থানের জবাবে বিরোধী প্রতিনিধিরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের সঙ্গে পরামর্শ না করে তারা একতরফাভাবে এই বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না। এমনকি লং মার্চ স্থগিত করার বিনিময়ে সরকার ঠিক কী ধরনের রাজনৈতিক সুবিধা বা ছাড় দিতে প্রস্তুত, সে বিষয়েও তারা জানতে চেয়েছেন। পরবর্তীতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নকভির উদ্যোগে দুই পক্ষের মাঝে মতপার্থক্য ঘুচিয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর নানামুখী কূটনৈতিক তৎপরতা ও সমন্বয় সাধনের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

সামগ্রিক পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষই রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা এড়িয়ে সংলাপের মাধ্যমে অচলাবস্থা নিরসনের ব্যাপারে সম্মত হলেও ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ, তার পরিবারের সদস্যদের মুক্তি এবং রাজপথের কর্মসূচি বাতিলের মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলোতে এখনো যথেষ্ট দূরত্ব বজায় রয়েছে। ফলে পরবর্তী ধাপের বৈঠকে এসব অমীমাংসিত ও জটিল ইস্যুগুলোতে কী ধরনের রাজনৈতিক বোঝাপড়া বা সমঝোতা অর্জিত হয়, তার ওপরই দেশের সার্বিক রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে বন্দি ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে পিটিআইয়ের আলোচনা শুরু

সর্বশেষ হালনাগাদ : ১০:১৯:৪০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পুনর্বহালসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দাবিতে বর্তমান পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করেছে প্রধান বিরোধী দল পিটিআই। জাতীয় পরিষদের স্পিকার আয়াজ সাদিকের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত প্রথম দফার বৈঠকের পর, দলটির ছয় সদস্যের আলোচনাকারী কমিটি ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ নিশ্চিত করাকেই তাদের পরবর্তী আলোচনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হিসেবে নির্ধারণ করেছে। তবে সমঝোতার পথ এখনো পুরোপুরি মসৃণ হয়ে ওঠেনি, কারণ উভয় পক্ষের মৌলিক কিছু ইস্যুতে অবস্থান ও দৃষ্টিভঙ্গি বেশ ভিন্ন রয়েছে।

গত শুক্রবার সরকারি প্রতিনিধি, পিটিআই এবং পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) নেতাদের অংশগ্রহণে এই সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিরোধীদের পক্ষ থেকে কারাবন্দি ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ ছাড়াও তার বোনদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া এবং সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী কোনো ব্যক্তিগত হাসপাতালে তার সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার মতো বেশ কিছু আস্থাবর্ধক পদক্ষেপের জোরালো দাবি জানানো হয়। তবে সরকারি পক্ষ থেকে এসব দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ইতিবাচক বা সুনির্দিষ্ট প্রতিক্রিয়া দেখানো হয়নি।

প্রথম দফার বৈঠক শেষে পিটিআইয়ের আলোচনাকারী দলটি পেশোয়ারে গিয়ে খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি এবং বিরোধী নেতা মাহমুদ আচাকজাইয়ের সঙ্গে বৈঠক করে আলোচনার বিস্তারিত বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে। অন্যদিকে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নকভি লাহোরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের কাছে বৈঠকের সামগ্রিক অগ্রগতি সম্পর্কে প্রতিবেদন পেশ করেন। দুই পক্ষের মধ্যে সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলেও সরকারের পক্ষ থেকে ইসলামাবাদ অভিমুখী সম্ভাব্য লং মার্চ বা যেকোনো ধরনের বিক্ষোভের পরিকল্পনা শর্তহীনভাবে বাতিলের জন্য কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে।

লং মার্চ কর্মসূচি নিয়ে সরকারের কঠোর অবস্থানের জবাবে বিরোধী প্রতিনিধিরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের সঙ্গে পরামর্শ না করে তারা একতরফাভাবে এই বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না। এমনকি লং মার্চ স্থগিত করার বিনিময়ে সরকার ঠিক কী ধরনের রাজনৈতিক সুবিধা বা ছাড় দিতে প্রস্তুত, সে বিষয়েও তারা জানতে চেয়েছেন। পরবর্তীতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নকভির উদ্যোগে দুই পক্ষের মাঝে মতপার্থক্য ঘুচিয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর নানামুখী কূটনৈতিক তৎপরতা ও সমন্বয় সাধনের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

সামগ্রিক পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষই রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা এড়িয়ে সংলাপের মাধ্যমে অচলাবস্থা নিরসনের ব্যাপারে সম্মত হলেও ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ, তার পরিবারের সদস্যদের মুক্তি এবং রাজপথের কর্মসূচি বাতিলের মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলোতে এখনো যথেষ্ট দূরত্ব বজায় রয়েছে। ফলে পরবর্তী ধাপের বৈঠকে এসব অমীমাংসিত ও জটিল ইস্যুগুলোতে কী ধরনের রাজনৈতিক বোঝাপড়া বা সমঝোতা অর্জিত হয়, তার ওপরই দেশের সার্বিক রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে।