কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পুনর্বহালসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দাবিতে বর্তমান পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করেছে প্রধান বিরোধী দল পিটিআই। জাতীয় পরিষদের স্পিকার আয়াজ সাদিকের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত প্রথম দফার বৈঠকের পর, দলটির ছয় সদস্যের আলোচনাকারী কমিটি ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ নিশ্চিত করাকেই তাদের পরবর্তী আলোচনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হিসেবে নির্ধারণ করেছে। তবে সমঝোতার পথ এখনো পুরোপুরি মসৃণ হয়ে ওঠেনি, কারণ উভয় পক্ষের মৌলিক কিছু ইস্যুতে অবস্থান ও দৃষ্টিভঙ্গি বেশ ভিন্ন রয়েছে।
গত শুক্রবার সরকারি প্রতিনিধি, পিটিআই এবং পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) নেতাদের অংশগ্রহণে এই সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিরোধীদের পক্ষ থেকে কারাবন্দি ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ ছাড়াও তার বোনদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া এবং সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী কোনো ব্যক্তিগত হাসপাতালে তার সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার মতো বেশ কিছু আস্থাবর্ধক পদক্ষেপের জোরালো দাবি জানানো হয়। তবে সরকারি পক্ষ থেকে এসব দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ইতিবাচক বা সুনির্দিষ্ট প্রতিক্রিয়া দেখানো হয়নি।
প্রথম দফার বৈঠক শেষে পিটিআইয়ের আলোচনাকারী দলটি পেশোয়ারে গিয়ে খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি এবং বিরোধী নেতা মাহমুদ আচাকজাইয়ের সঙ্গে বৈঠক করে আলোচনার বিস্তারিত বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে। অন্যদিকে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নকভি লাহোরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের কাছে বৈঠকের সামগ্রিক অগ্রগতি সম্পর্কে প্রতিবেদন পেশ করেন। দুই পক্ষের মধ্যে সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলেও সরকারের পক্ষ থেকে ইসলামাবাদ অভিমুখী সম্ভাব্য লং মার্চ বা যেকোনো ধরনের বিক্ষোভের পরিকল্পনা শর্তহীনভাবে বাতিলের জন্য কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে।
লং মার্চ কর্মসূচি নিয়ে সরকারের কঠোর অবস্থানের জবাবে বিরোধী প্রতিনিধিরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের সঙ্গে পরামর্শ না করে তারা একতরফাভাবে এই বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না। এমনকি লং মার্চ স্থগিত করার বিনিময়ে সরকার ঠিক কী ধরনের রাজনৈতিক সুবিধা বা ছাড় দিতে প্রস্তুত, সে বিষয়েও তারা জানতে চেয়েছেন। পরবর্তীতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নকভির উদ্যোগে দুই পক্ষের মাঝে মতপার্থক্য ঘুচিয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর নানামুখী কূটনৈতিক তৎপরতা ও সমন্বয় সাধনের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
সামগ্রিক পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষই রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা এড়িয়ে সংলাপের মাধ্যমে অচলাবস্থা নিরসনের ব্যাপারে সম্মত হলেও ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ, তার পরিবারের সদস্যদের মুক্তি এবং রাজপথের কর্মসূচি বাতিলের মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলোতে এখনো যথেষ্ট দূরত্ব বজায় রয়েছে। ফলে পরবর্তী ধাপের বৈঠকে এসব অমীমাংসিত ও জটিল ইস্যুগুলোতে কী ধরনের রাজনৈতিক বোঝাপড়া বা সমঝোতা অর্জিত হয়, তার ওপরই দেশের সার্বিক রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে।























