Dhaka ০৪:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

জমি নিয়ে বিরোধে যশোরে বৃদ্ধের মরদেহ দাফন ঘিরে স্বজনদের হট্টগোল ও হাতাহাতি

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৭:০৯:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬
  • ৯ বার দেখা হয়েছে

যশোর শহরের কারবালা কবরস্থানে এক বৃদ্ধের মরদেহ দাফনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে স্বজনদের মধ্যে তীব্র কথা-কাটাকাটি, হট্টগোল ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে সিতারামপুর গ্রামের বাসিন্দা প্রয়াত আবুল কালাম আজাদের মরদেহ দাফনের সময় এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুরে কারবালা কবরস্থানে আবুল কালাম আজাদের দাফনের প্রস্তুতি চলছিল। ঠিক সে সময় নিহতের ভাগনী মাসুমার স্বজনেরা সেখানে উপস্থিত হয়ে দাফনকার্যে সরাসরি বাধা প্রদান করেন। তাঁদের অভিযোগ, পরিবারের সম্পত্তির ভাগের ক্ষেত্রে মাসুমাকে অন্যায়ভাবে বঞ্চিত করা হয়েছে।

তবে দাফনে বাধাদানকারীদের এই দাবি কড়া ভাষায় অস্বীকার করেন আবুল কালাম আজাদের অন্যান্য স্বজনেরা। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, যে জমিটি নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি করা হচ্ছে, সেটি আবুল কালাম আজাদ সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে নিলামের মাধ্যমে ক্রয় করেছিলেন। এছাড়া তাঁদের বাবার মৃত্যুর পর পৈতৃক পারিবারিক সম্পত্তি তৎকালীন সময়েই সব ভাইবোনের মধ্যে সমান ও ন্যায্যভাবে বণ্টন করা হয়েছিল বলে দাবি করেন তাঁরা।

জমির মালিকানা ও ভাগাভাগি নিয়ে কবরস্থানেই দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা চরম আকার ধারণ করে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতিতে রূপ নেয়। দাফনের জন্য প্রস্তুত রাখা খাটিয়ায় মরদেহ সামনে রেখেই স্বজনদের এমন হাতাহাতি ও অনাকাঙ্ক্ষিত বিরোধ দেখতে কবরস্থানে উৎসুক সাধারণ মানুষের ভিড় জমে যায়।

পরবর্তীতে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত এগিয়ে এসে মধ্যস্থতা করেন এবং হস্তক্ষেপর মাধ্যমে দুই পক্ষকে শান্ত করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। একপর্যায়ে দাফনে বাধা দেওয়া পক্ষটি ঘটনাস্থল ত্যাগ করলে স্থানীয়দের সহায়তায় আবুল কালাম আজাদের মরদেহ কারবালা কবরস্থানে আনুষ্ঠানিকভাবে দাফন করা হয়।

মরদেহ সামনে রেখে কবরস্থানে এমন হট্টগোলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিহতের অন্য স্বজন ও উপস্থিত স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে চরম মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। উপস্থিত স্থানীয়দের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পারিবারিক সম্পত্তি বা জমি নিয়ে কোনো বিরোধ বা জটিলতা থাকলে তা ঘরোয়া আলোচনা, সামাজিক সমঝোতা কিংবা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধান করা যেত। কিন্তু একজন মৃত মানুষের লাশ সামনে রেখে কবরস্থানের ভেতরে দাফন আটকে এমন বিবাদে জড়ানো অত্যন্ত দুঃখজনক, লজ্জাজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

জমি নিয়ে বিরোধে যশোরে বৃদ্ধের মরদেহ দাফন ঘিরে স্বজনদের হট্টগোল ও হাতাহাতি

সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৭:০৯:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

যশোর শহরের কারবালা কবরস্থানে এক বৃদ্ধের মরদেহ দাফনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে স্বজনদের মধ্যে তীব্র কথা-কাটাকাটি, হট্টগোল ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে সিতারামপুর গ্রামের বাসিন্দা প্রয়াত আবুল কালাম আজাদের মরদেহ দাফনের সময় এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুরে কারবালা কবরস্থানে আবুল কালাম আজাদের দাফনের প্রস্তুতি চলছিল। ঠিক সে সময় নিহতের ভাগনী মাসুমার স্বজনেরা সেখানে উপস্থিত হয়ে দাফনকার্যে সরাসরি বাধা প্রদান করেন। তাঁদের অভিযোগ, পরিবারের সম্পত্তির ভাগের ক্ষেত্রে মাসুমাকে অন্যায়ভাবে বঞ্চিত করা হয়েছে।

তবে দাফনে বাধাদানকারীদের এই দাবি কড়া ভাষায় অস্বীকার করেন আবুল কালাম আজাদের অন্যান্য স্বজনেরা। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, যে জমিটি নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি করা হচ্ছে, সেটি আবুল কালাম আজাদ সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে নিলামের মাধ্যমে ক্রয় করেছিলেন। এছাড়া তাঁদের বাবার মৃত্যুর পর পৈতৃক পারিবারিক সম্পত্তি তৎকালীন সময়েই সব ভাইবোনের মধ্যে সমান ও ন্যায্যভাবে বণ্টন করা হয়েছিল বলে দাবি করেন তাঁরা।

জমির মালিকানা ও ভাগাভাগি নিয়ে কবরস্থানেই দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা চরম আকার ধারণ করে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতিতে রূপ নেয়। দাফনের জন্য প্রস্তুত রাখা খাটিয়ায় মরদেহ সামনে রেখেই স্বজনদের এমন হাতাহাতি ও অনাকাঙ্ক্ষিত বিরোধ দেখতে কবরস্থানে উৎসুক সাধারণ মানুষের ভিড় জমে যায়।

পরবর্তীতে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত এগিয়ে এসে মধ্যস্থতা করেন এবং হস্তক্ষেপর মাধ্যমে দুই পক্ষকে শান্ত করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। একপর্যায়ে দাফনে বাধা দেওয়া পক্ষটি ঘটনাস্থল ত্যাগ করলে স্থানীয়দের সহায়তায় আবুল কালাম আজাদের মরদেহ কারবালা কবরস্থানে আনুষ্ঠানিকভাবে দাফন করা হয়।

মরদেহ সামনে রেখে কবরস্থানে এমন হট্টগোলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিহতের অন্য স্বজন ও উপস্থিত স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে চরম মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। উপস্থিত স্থানীয়দের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পারিবারিক সম্পত্তি বা জমি নিয়ে কোনো বিরোধ বা জটিলতা থাকলে তা ঘরোয়া আলোচনা, সামাজিক সমঝোতা কিংবা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধান করা যেত। কিন্তু একজন মৃত মানুষের লাশ সামনে রেখে কবরস্থানের ভেতরে দাফন আটকে এমন বিবাদে জড়ানো অত্যন্ত দুঃখজনক, লজ্জাজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত।