Dhaka ১২:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

পারস্পরিক সুবিধা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে বঙ্গোপসাগরকে সমৃদ্ধির অঞ্চল করার প্রত্যয় প্রধানমন্ত্রীর

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৭:০৬:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬
  • ১১ বার দেখা হয়েছে

বঙ্গোপসাগরকে এমন একটি কৌশলগত ও অর্থনৈতিক অঞ্চলে পরিণত করা হবে, যেখানে অংশীদার দেশগুলো পারস্পরিক সুবিধা ও সহযোগিতার সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর ভর করে একসঙ্গে এগিয়ে যাবে বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীতে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’ আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের (সিজিএস) আয়োজনে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ৩ থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত এই আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিশ্বের শতাধিক দেশের প্রতিনিধি, শীর্ষ নীতিনির্ধারক, আন্তর্জাতিক কূটনীতিক, প্রখ্যাত ব্যবসায়ী, গবেষক ও বিভিন্ন খাতের বিষেশজ্ঞরা তিন দিনব্যাপী এই সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন। এবারের সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘ফ্র্যাগমেন্টস, ফ্রন্টিয়ার্স অ্যান্ড ফিউচারস: নেভিগেটিং পাওয়ার, টেকনোলজি অ্যান্ড ট্রাস্ট ইন আ ওয়ার্ল্ড রি-রিটেন’।

উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান, বাংলাদেশ সর্বদা নিজের জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে এবং একই সঙ্গে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে গঠনমূলক ও ইতিবাচক উপায়ে কাজ করে যাবে। বর্তমান সরকারের নীতিনির্ধারণী ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, নতুন সরকারের প্রধান অগ্রাধিকারগুলোর মধ্যে রয়েছে জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করা, দীর্ঘমেয়াদি নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, সার্বিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার সাধন করা। বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য এবং শক্তিশালী উৎপাদন ও নতুন বিনিয়োগের প্রধান কেন্দ্রে পরিণত করতেই বর্তমান সরকার অবিরাম কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

তরুণ প্রজন্মকে ভবিষ্যৎমুখী করার পরিকল্পনা ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং আধুনিক প্রযুক্তিগত বিপ্লবের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের তরুণ সমাজকে সার্বিক দক্ষতায় প্রস্তুত করা হচ্ছে। জাতীয় পর্যায়ে নতুন উদ্ভাবন, তরুণ উদ্যোক্তা তৈরি এবং আইটি স্টার্টআপগুলোতে সরকারের নানামুখী সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। এর পাশাপাশি দেশ থেকে মেধা পাচার বা ‘ব্রেইন ড্রেন’ রোধ করে তা কীভাবে দেশের কাজে ‘ব্রেইন সার্কুলেশনে’ রূপান্তর করা যায়, সরকার সে লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট কৌশল গ্রহণ করতে চায়।

আন্তর্জাতিক মানবিক ইস্যু ও নিরাপত্তা প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ মানবিক কারণে প্রায় ১৩ লাখ বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে নিজ ভূখণ্ডে আশ্রয় দিয়েছে। তবে আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো এসব রোহিঙ্গা নাগরিকদের দ্রুত, সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই উপায়ে নিজ মাতৃভূমিতে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা। প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, এই মানবসৃষ্ট সংকটের মূল উৎস ও সূত্রপাত যেহেতু মিয়ানমারে হয়েছিল, তাই এর স্থায়ী ও টেকসই কূটনৈতিক সমাধানও মিয়ানমারেই হতে হবে।

বঙ্গোপসাগরের কৌশলগত ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সক্ষমতার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গোপসাগর হলো বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সম্ভাবনার অন্যতম প্রধান ভিত্তি। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বঙ্গোপসাগর বাংলাদেশের অর্থনীতি ও ভাগ্য নির্ধারণে বিশেষ ভূমিকা রেখে চলেছে। বাংলাদেশের ভৌগোলিক ও চমৎকার কৌশলগত অবস্থানের কারণে আমাদের সমুদ্রবন্দর, অভ্যন্তরীণ নৌপথ ও সামুদ্রিক অর্থনীতির মাধ্যমে বিশ্ব অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত হওয়ার বিরাট সুযোগ উন্মুক্ত রয়েছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল, মৎস্যসম্পদ আহরণ, উপকূলীয় পর্যটন, জ্বালানি খাত এবং আঞ্চলিক সরবরাহ শৃঙ্খলে (সাপ্লাই চেইন) অসীম সম্ভাবনা লুকিয়ে রয়েছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, আমাদের এই অভিন্ন ভৌগোলিক অবস্থানকে অভিন্ন আঞ্চলিক সমৃদ্ধিতে রূপান্তর করতে হলে প্রতিবেশী ও অংশীদার দেশগুলোর মধ্যে আরও গভীর দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা অত্যন্ত জরুরি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও তার আঞ্চলিক সহযোগীরা মিলে বাণিজ্য, জ্বালানি, শিক্ষা, প্রযুক্তি, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা এবং সমুদ্র নিরাপত্তা খাতে পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন দুয়ার উন্মোচন করতে পারে। এর মাধ্যমে নতুন নতুন বিশ্ববাজার উন্মুক্ত করার পাশাপাশি তরুণদের জন্য আরও নতুন সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব। সমতা, ন্যায্যতা এবং সর্বজনীন ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে একটি শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর তিনি বিশেষ জোর দেন।

বক্তব্যের শেষাংশে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মূল দর্শন পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সবসময় পারস্পরিক সংলাপ, কৌশলগত অংশীদারত্ব এবং আন্তর্জাতিক সম্মানের সংস্কৃতিতে বিশ্বাসী। সার্বিক শান্তি ও সম্প্রীতিকেই যৌথ সমৃদ্ধি ও জাতীয় উন্নয়নের একমাত্র ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সকল অংশীদারদের সঙ্গে বাংলাদেশ সামনের দিনেও কাজ চালিয়ে যাবে।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

পারস্পরিক সুবিধা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে বঙ্গোপসাগরকে সমৃদ্ধির অঞ্চল করার প্রত্যয় প্রধানমন্ত্রীর

সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৭:০৬:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

বঙ্গোপসাগরকে এমন একটি কৌশলগত ও অর্থনৈতিক অঞ্চলে পরিণত করা হবে, যেখানে অংশীদার দেশগুলো পারস্পরিক সুবিধা ও সহযোগিতার সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর ভর করে একসঙ্গে এগিয়ে যাবে বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীতে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’ আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের (সিজিএস) আয়োজনে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ৩ থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত এই আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিশ্বের শতাধিক দেশের প্রতিনিধি, শীর্ষ নীতিনির্ধারক, আন্তর্জাতিক কূটনীতিক, প্রখ্যাত ব্যবসায়ী, গবেষক ও বিভিন্ন খাতের বিষেশজ্ঞরা তিন দিনব্যাপী এই সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন। এবারের সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘ফ্র্যাগমেন্টস, ফ্রন্টিয়ার্স অ্যান্ড ফিউচারস: নেভিগেটিং পাওয়ার, টেকনোলজি অ্যান্ড ট্রাস্ট ইন আ ওয়ার্ল্ড রি-রিটেন’।

উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান, বাংলাদেশ সর্বদা নিজের জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে এবং একই সঙ্গে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে গঠনমূলক ও ইতিবাচক উপায়ে কাজ করে যাবে। বর্তমান সরকারের নীতিনির্ধারণী ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, নতুন সরকারের প্রধান অগ্রাধিকারগুলোর মধ্যে রয়েছে জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করা, দীর্ঘমেয়াদি নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, সার্বিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার সাধন করা। বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য এবং শক্তিশালী উৎপাদন ও নতুন বিনিয়োগের প্রধান কেন্দ্রে পরিণত করতেই বর্তমান সরকার অবিরাম কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

তরুণ প্রজন্মকে ভবিষ্যৎমুখী করার পরিকল্পনা ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং আধুনিক প্রযুক্তিগত বিপ্লবের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের তরুণ সমাজকে সার্বিক দক্ষতায় প্রস্তুত করা হচ্ছে। জাতীয় পর্যায়ে নতুন উদ্ভাবন, তরুণ উদ্যোক্তা তৈরি এবং আইটি স্টার্টআপগুলোতে সরকারের নানামুখী সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। এর পাশাপাশি দেশ থেকে মেধা পাচার বা ‘ব্রেইন ড্রেন’ রোধ করে তা কীভাবে দেশের কাজে ‘ব্রেইন সার্কুলেশনে’ রূপান্তর করা যায়, সরকার সে লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট কৌশল গ্রহণ করতে চায়।

আন্তর্জাতিক মানবিক ইস্যু ও নিরাপত্তা প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ মানবিক কারণে প্রায় ১৩ লাখ বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে নিজ ভূখণ্ডে আশ্রয় দিয়েছে। তবে আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো এসব রোহিঙ্গা নাগরিকদের দ্রুত, সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই উপায়ে নিজ মাতৃভূমিতে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা। প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, এই মানবসৃষ্ট সংকটের মূল উৎস ও সূত্রপাত যেহেতু মিয়ানমারে হয়েছিল, তাই এর স্থায়ী ও টেকসই কূটনৈতিক সমাধানও মিয়ানমারেই হতে হবে।

বঙ্গোপসাগরের কৌশলগত ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সক্ষমতার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গোপসাগর হলো বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সম্ভাবনার অন্যতম প্রধান ভিত্তি। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বঙ্গোপসাগর বাংলাদেশের অর্থনীতি ও ভাগ্য নির্ধারণে বিশেষ ভূমিকা রেখে চলেছে। বাংলাদেশের ভৌগোলিক ও চমৎকার কৌশলগত অবস্থানের কারণে আমাদের সমুদ্রবন্দর, অভ্যন্তরীণ নৌপথ ও সামুদ্রিক অর্থনীতির মাধ্যমে বিশ্ব অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত হওয়ার বিরাট সুযোগ উন্মুক্ত রয়েছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল, মৎস্যসম্পদ আহরণ, উপকূলীয় পর্যটন, জ্বালানি খাত এবং আঞ্চলিক সরবরাহ শৃঙ্খলে (সাপ্লাই চেইন) অসীম সম্ভাবনা লুকিয়ে রয়েছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, আমাদের এই অভিন্ন ভৌগোলিক অবস্থানকে অভিন্ন আঞ্চলিক সমৃদ্ধিতে রূপান্তর করতে হলে প্রতিবেশী ও অংশীদার দেশগুলোর মধ্যে আরও গভীর দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা অত্যন্ত জরুরি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও তার আঞ্চলিক সহযোগীরা মিলে বাণিজ্য, জ্বালানি, শিক্ষা, প্রযুক্তি, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা এবং সমুদ্র নিরাপত্তা খাতে পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন দুয়ার উন্মোচন করতে পারে। এর মাধ্যমে নতুন নতুন বিশ্ববাজার উন্মুক্ত করার পাশাপাশি তরুণদের জন্য আরও নতুন সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব। সমতা, ন্যায্যতা এবং সর্বজনীন ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে একটি শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর তিনি বিশেষ জোর দেন।

বক্তব্যের শেষাংশে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মূল দর্শন পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সবসময় পারস্পরিক সংলাপ, কৌশলগত অংশীদারত্ব এবং আন্তর্জাতিক সম্মানের সংস্কৃতিতে বিশ্বাসী। সার্বিক শান্তি ও সম্প্রীতিকেই যৌথ সমৃদ্ধি ও জাতীয় উন্নয়নের একমাত্র ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সকল অংশীদারদের সঙ্গে বাংলাদেশ সামনের দিনেও কাজ চালিয়ে যাবে।