পাঞ্জাব সীমান্তে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে অন্তত দুজন পাকিস্তানি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং অপর একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। গত শুক্রবার (২ অক্টোবর) পাঞ্জাব সীমান্তে তিন নিরস্ত্র বাসিন্দাকে লক্ষ্য করে বিএসএফ জওয়ানরা গুলি চালালে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’ এবং পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবর অনুযায়ী, এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে পারমাণবিক শক্তিধর দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে নতুন করে সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
পাকিস্তান টেলিভিশনের (পিটিভি) নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়, শুক্রবার ওই তিন নিরস্ত্র বেসামরিক নাগরিক সীমান্ত পিলার থেকে মাত্র কয়েক ধাপ দূরে অবস্থান করছিলেন। তারা কোনোভাবেই সীমান্ত পার হওয়া কিংবা নিরাপত্তা বেষ্টনী অতিক্রম করার চেষ্টা করেননি। পাকিস্তান দাবি করেছে, কোনো ধরনের উসকানি ছাড়াই তাদের লক্ষ্য করে বিএসএফ জওয়ানরা সরাসরি গুলি চালায়। একই সঙ্গে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এই হামলাকে ভারতের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান আন্তর্জাতিক সীমান্ত চুক্তির ‘গুরুতর লঙ্ঘন’ বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।
অপরদিকে, ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোতে সম্পূর্ণ ভিন্ন দাবি করা হয়েছে। ভারতীয় মিডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই তিন পাকিস্তানি নাগরিক অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন, যার প্রেক্ষিতে বিএসএফ জওয়ানরা বাধ্য হয়ে গুলি চালায়। তবে এ ঘটনার সার্বিক বিষয়ে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা মন্তব্য করা হয়নি।
উল্লেখ্য, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কাশ্মীর সীমান্ত নিয়ে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব ও নিয়মিত সংঘর্ষের ইতিহাস থাকলেও পাঞ্জাব সীমান্ত অঞ্চলটি সে তুলনায় অনেকটাই শান্ত বলে বিবেচিত হয়ে আসছিল। শান্ত হিসেবে পরিচিত পাঞ্জাব সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বেসামরিক নাগরিক নিহতের এই ঘটনা দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছে। তবে এই ঘটনায় তীব্র অসন্তোষ থাকলেও পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত কোনো নতুন কূটনৈতিক বা সামরিক পদক্ষেপের ঘোষণা দেওয়া হয়নি।























