ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার পশ্চিমাঞ্চলে একটি আবাসিক ভবনে কোনো ধরনের পূর্বসতর্কতা ছাড়াই হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী। গভীর রাতে বাসিন্দারা যখন ঘুমিয়ে ছিলেন, তখন চালানো এ বর্বর হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ছয়জন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) ভোরে গাজা সিটির ঘনবসতিপূর্ণ রেমাল এলাকার ‘আল-আসালা’ ভবনের একটি অ্যাপার্টমেন্ট লক্ষ্য করে এই আকস্মিক হামলা চালানো হয়। রেমাল এলাকাটি গাজা সিটির অন্যতম জনবহুল আবাসিক অঞ্চল হিসেবে পরিচিত, যেখানে বর্তমানে অস্থায়ী তাঁবু ও ক্যাম্পে হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি নাগরিক আশ্রয় নিয়ে আছেন।
খান ইউনিস থেকে আল-জাজিরার প্রতিনিধি হানি আল-শায়ের ঘটনাস্থলের পরিস্থিতিকে ‘ভয়াবহ’ হিসেবে বর্ণনা করে জানান, গভীর রাতে এলাকার বাসিন্দারা যখন ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন, ঠিক তখনই আকাশে যুদ্ধবিমানের বিকট শব্দ ক্রমেই জোরালো হয়ে ওঠে। এর পরপরই ভবনটির ওপর টানা তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়, যাতে ওই অ্যাপার্টমেন্টে থাকা ঘুমন্ত মানুষজন ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।
এ হামলায় টার্গেট করা নির্দিষ্ট অ্যাপার্টমেন্টটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি নিচের তলাগুলোতেও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটে। হামলার ফলে আল-আসালা ভবনটিতে অন্তত এক ঘণ্টা ধরে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছিল। পরবর্তীতে ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
হামলার পর ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা নিখোঁজ ব্যক্তি ও মৃতদেহের সন্ধানে সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন। উদ্ধারকাজ চলাকালেও এলাকাটির আকাশে ইসরায়েলি ড্রোন চক্কর দিচ্ছিল এবং গাজার আকাশে অত্যন্ত নিচু দিয়ে যুদ্ধবিমান ওড়ার শব্দ পাওয়া যাচ্ছিল।
হামলায় হতাহতদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। গাজার আল-শিফা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিমান হামলায় নিহত পাঁচজনের মধ্যে চারজনই নারী। নিহত নারীদের মধ্যে একজন প্রবীণ খ্রিস্টান নারী ও তাঁর মেয়ে রয়েছেন। এছাড়া হামলায় গুরুতর আহত অন্য ছয়জনকে চিকিৎসার জন্য আল-শিফা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।























