ইউক্রেনের সঙ্গে দূরপাল্লার হামলা বন্ধের কোনো দ্বিপক্ষীয় চুক্তিতে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ইউক্রেনের জ্বালানি ও অবকাঠামোতে রুশ বাহিনীর পাল্টা হামলা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়ে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, বাল্টিক সাগরের তীরে অবস্থিত রাশিয়ার বিচ্ছিন্ন ভূখণ্ড কালিনিনগ্রাদ কোনো ধরনের পশ্চিমা হুমকির মুখে পড়লে রাশিয়া পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারে দ্বিধা করবে না। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) মস্কোয় আয়োজিত ভলদাই আলোচনা ক্লাবের রাজনৈতিক ফোরামে তিনি এসব কথা বলেন।
ইউক্রেনের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধের বিনিময়ে রাশিয়ার তেল শোধনাগারে হামলা বন্ধের যে প্রস্তাব ইউক্রেন দিয়েছিল, তা নিছক ‘হাস্যকর’ বলে উড়িয়ে দেন পুতিন। তিনি স্বীকার করেন, ইউক্রেনীয় হামলায় রাশিয়ার মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ১ শতাংশ ক্ষতি হয়েছে, তবে মস্কো ইতিমধ্যেই এর কঠোর জবাব দেওয়া শুরু করেছে। ন্যাটো যদি কালিনিনগ্রাদ অবরুদ্ধ বা বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করে, তবে রাশিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পারমাণবিক অস্ত্রসহ সব ধরনের সামরিক ব্যবস্থা নেবে বলে জানান তিনি। তবে ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে রাশিয়ার এই পারমাণবিক হুমকিকে দায়িত্বজ্ঞানহীন আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ও সংঘাত বৃদ্ধির মধ্যেই পুতিন ইঙ্গিত দেন যে, ভবিষ্যতে পরিস্থিতি অনুকূলে এলে এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের উন্নতি হলে রাশিয়ায় সম্প্রতি জব্দ করা পশ্চিমা কোম্পানিগুলোর ব্যবসা ও সম্পদ ফেরত দেওয়ার পথ খোলা থাকতে পারে। সামরিক বলপ্রয়োগের পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে ইউক্রেনকে একটি নিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে গঠন করে সংঘাতের স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান দেখতে চান বলেও জানান রুশ প্রেসিডেন্ট।























