দেশের প্রায় সাড়ে চার হাজার ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন আগামী বছরের ৬ জুনের পূর্বে অর্থাৎ উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগেই সম্পন্ন করার বিষয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে নীতিগত ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওস্থ নির্বাচন ভবনের সম্মেলন কক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের এক সমন্বয় সভা শেষে এ তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
ব্রিফিংয়ে নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ স্পষ্ট করেন যে, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের এই বিপুলসংখ্যক ইউপি ভোট আয়োজনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন (ইসি) তাদের আগের রূপরেখা বা পরিকল্পনা থেকে সামান্যতম সরে আসেনি। তিনি জানান, সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত মতামত, তথ্যাদি ও সুপারিশগুলো সাচিবিক পর্যায়ে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব বৈঠকে সার্বিক সময়সূচি সমন্বয় করে অতি দ্রুত ভোটের সুনির্দিষ্ট তারিখ আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হবে।
পাবলিক পরীক্ষা ও শিক্ষা কার্যক্রম সচল রেখে ভোটের উপযোগী সময় খুঁজে নেওয়া ইসির জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। নির্বাচন কমিশনার সময়সূচির তীব্র সংকটের বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, পুরো নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসজুড়ে নানা পরীক্ষা রয়েছে এবং ফেব্রুয়ারি মাসের ৭-৮ তারিখের দিকে পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে যাচ্ছে। আবার রোজা শেষে মাধ্যমিক (এসএসসি) পরীক্ষা এবং জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হবে। ফলে পরীক্ষার ফাঁকে জানুয়ারি মাসসহ যে সীমিত বিরতি পাওয়া যাবে, তা পর্যালোচনা করে নির্বাচন আয়োজনের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
নির্বাচনে শিক্ষক সমাজ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি আরও বলেন, পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও একাডেমিক কার্যক্রম যেন কোনোভাবেই ব্যাহত না হয় এবং ভোটগ্রহণে নিয়োজিত শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা যায়—এমন একটি কার্যকর পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে। কমিশন ও সচিবালয় দ্রুতই বাজেট, প্রশাসনিক ও অন্যান্য প্রযুক্তিগত দিকগুলো চূড়ান্ত সমন্বয় করে ইউপি নির্বাচনের চূড়ান্ত সময়সূচি ঘোষণা করবে।






















