দেশের বাজারে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সিলিন্ডার নিয়ে চরম নৈরাজ্য তৈরি হয়েছে। খুচরা বাজারে গ্যাস সিলিন্ডার সাজিয়ে রাখা হলেও ক্রেতাদের জানানো হচ্ছে সেগুলো খালি কিংবা আগে থেকে বুকিং করা। তবে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অতিরিক্ত ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা বেশি দিলেই দ্রুত মিলছে গ্যাসভর্তি সিলিন্ডার।
এদিকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ দাবি করেছেন, দেশে এলপিজির কোনো ধরনের ঘাটতি নেই। আমদানিকারকরাও সরকারের সঙ্গে বৈঠকে নিয়মিত সরবরাহের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে বাজার পরিস্থিতি বলছে ভিন্ন কথা। সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার দাবি সত্ত্বেও খুচরা পর্যায়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে। পাইপলাইনে তীব্র গ্যাস সংকটের মধ্যে বোতলজাত গ্যাসের এমন আকাশছোঁয়া দামে চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ভোক্তারা।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) নির্ধারিত দর অনুযায়ী ১২ কেজির সিলিন্ডার ১ হাজার ৫৮৫ টাকায় বিক্রির কথা থাকলেও বাস্তবে তা বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ২৫০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায়। কোথাও কোথাও ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত দাবি করা হচ্ছে। একইভাবে ৩৫ কেজি, ৪৫ কেজি এবং ১৫ কেজির সিলিন্ডারেও নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বহু গুণ বেশি দাম নেওয়া হচ্ছে। খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, পাইকারি পর্যায় থেকেই তাদের বেশি দামে কিনতে হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগরে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি বেড়েছে। এতে এলপিজি আমদানির শিডিউল কিছুটা বাধাগ্রস্ত হলেও আমদানিকারকরা বিষয়টি সরাসরি স্বীকার করছেন না। সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক জটিলতা ও অভ্যন্তরীণ নজরদারির অভাবে বাজারে এই অস্থিরতা তীব্র আকার ধারণ করেছে।


























