দুবাই থেকে ইসরাইলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে সহকারী পাইলটকে ছুরিকাঘাত করে জোরপূর্বক বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করা ব্যক্তি একজন ‘ইসলামপন্থি চরমপন্থায় দীক্ষিত’ ব্যক্তি ছিলেন বলে দাবি করেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তার ধারণা, হামলাকারী অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে বিমানটি বিধ্বস্ত করার অপচেষ্টা চালিয়েছিলেন। গত বুধবার উড্ডয়নের প্রায় দুই ঘণ্টা পর বিমানটির উচ্চতা হঠাৎ ১৭ হাজার ফুটের বেশি নিচে নেমে যায় এবং পরবর্তীতে বিমানটির যাত্রী ও ক্রুরা সাহসিকতার সঙ্গে হামলাকারীকে কাবু করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এরপর বিমানটি সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম হয়।
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানান যে, হামলাকারী একজন ওমানের নাগরিক এবং যাত্রী ও ক্রুরা তাকে বেঁধে ফেলার পর তিনি বারবার ‘আমাকে মেরে ফেলো’ বলে চিৎকার করছিলেন। নেতানিয়াহুর মতে, এই আচরণ থেকে ওই ব্যক্তির আত্মঘাতী হওয়ার সুনির্দিষ্ট মানসিকতা স্পষ্ট হয়, যদিও এই হামলার পেছনের প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সমীচীন হবে না। সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, এই ঘটনার পেছনে কোনো আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা অন্য কোনো নাশকতামূলক উদ্দেশ্যের যোগসূত্র রয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে। যেহেতু বিমানটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের নিবন্ধিত ও পতাকাবাহী, তাই এর তদন্তের পূর্ণ এখতিয়ার তাদের রয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ আমিরাতের বেশ কিছু কর্মকর্তা এই ঘটনার পেছনে ইরানের কোনো গোপন ভূমিকা থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত দিলেও সরাসরি তেহরানকে দায়ী করেননি। ট্রাম্প জানিয়েছেন, যদি এই ঘটনায় ইরানের সংশ্লিষ্টতা চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়, তবে দেশটির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অন্যদিকে, ইসরাইলের নিরাপত্তা সংস্থা ও মোসাদের নেতৃত্বে পরিচালিত প্রাথমিক তদন্তেও হামলাকারীর মূল উদ্দেশ্য বিমান ধ্বংস করা ছিল বলেই ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ নামক ওই ফ্লাইটে ১৭০ জনেরও বেশি যাত্রী ছিলেন। দুবাই থেকে তেল আবিবের উদ্দেশে যাত্রা করার পর মাঝ আকাশে আকস্মিক উচ্চতা হারিয়ে বিমানটি জরুরি সংকেত পাঠায় এবং পরবর্তীতে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে ম্যানুয়ালি অবতরণ করে।























