যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নানামুখী নিষেধাজ্ঞার চাপ থাকা সত্ত্বেও বেইজিংয়ের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক আরও জোরালো করছে তেহরান। ইরানের অর্থমন্ত্রী আলি মাদানিজাদেহ জানিয়েছেন, চীনের সঙ্গে সামগ্রিক অংশীদারত্ব বাড়াতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হয়ে কাজ করছে বর্তমান সরকার।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি ইরানে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত কং পেইউয়ের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হন অর্থমন্ত্রী মাদানিজাদেহ। সেই বৈঠকেই দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে এই ইতিবাচক মনোভাবের কথা প্রকাশ করা হয়।
বৈঠকে মাদানিজাদেহ উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চীনের অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানের কারণে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার অপার সম্ভাবনা রয়েছে।
এ সময় তিনি শিল্প খাতে বিনিয়োগ, আধুনিক প্রযুক্তি বিনিময়, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি উৎপাদন, ডিজিটাল অর্থনীতি এবং সাপ্লাই চেইন বা সরবরাহ ব্যবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতে সহযোগিতা বহুগুণে বাড়ানোর সম্ভাবনার ওপর আলোকপাত করেন।
উল্লেখ্য, এর আগে ইরানের সামরিক বাহিনীর জন্য বিভিন্ন অস্ত্র ও খুচরা যন্ত্রাংশ আমদানির অভিযোগে চীনভিত্তিক বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এবং ব্যবসায়ী ব্যক্তির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়।
তা সত্ত্বেও চীন বর্তমানে ইরানের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে বহাল রয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের অর্থনীতিতে চীনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি মোকাবিলায় মার্কিন প্রশাসন শেষ পর্যন্ত কতটা কঠোর অবস্থান নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
বৈঠকে সম্প্রতি সংঘটিত বিভিন্ন সংকটের সময় ইরানের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সমর্থন এবং মানবিক সহায়তা প্রদানের জন্য চীনের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানান ইরানি অর্থমন্ত্রী। এছাড়া ব্রিকস ও সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার মতো আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মগুলোর মাধ্যমে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করার ওপরও গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
ইরানি বার্তা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, মাদানিজাদেহের ভাষ্যমতে তেহরান ও বেইজিং এখন কৌশলগত অংশীদারত্বমূলক সম্পর্কের এক নতুন অধ্যায়ের দিকে এগিয়ে চলেছে। একই সঙ্গে উভয় দেশ তাদের পূর্বনির্ধারিত ২৫ বছর মেয়াদি সামগ্রিক সহযোগিতা চুক্তি বাস্তবায়নের পথেও দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে।























