Dhaka ১০:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

ইসরাইলে নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক বিভেদ তুঙ্গে: অনিশ্চিত নেতানিয়াহুর ভবিষ্যৎ

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৪:৪৩:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৩ বার দেখা হয়েছে

ইসরাইলে জাতীয় নির্বাচনের আর এক মাসেরও কম সময় বাকি। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলা এবং এরপর প্রায় তিন বছর ধরে গাজা, লেবানন ও ইরানকে ঘিরে যুদ্ধের পর দেশটির রাজনীতিতে গভীর পরিবর্তন এসেছে। আসন্ন নির্বাচন সেই পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট এবং তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক সামরিক প্রধান গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী শিবির—দুই পক্ষই ৬১ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজনীয় সীমা থেকে দূরে রয়েছে। ফলে নির্বাচন শেষে আবারও বিভক্ত পার্লামেন্ট বা নেসেট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সাম্প্রতিক চ্যানেল ১৩-এর জরিপে নেতানিয়াহু বিরোধী ইহুদি দলগুলো ৫২টি আসন এবং নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ৫১টি আসন পেতে পারে বলে দেখানো হয়েছে। আইজেনকটের ইয়াশার পার্টি ২২টি আসন এবং নেতানিয়াহুর লিকুদ ১৮টি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা দেখানো হয়েছে ওই জরিপে। তবে কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারেনি।

আইজেনকট ইসরাইল ডিফেন্স ফোর্সেসের (আইডিএফ) সাবেক চিফ অব স্টাফ। গাজায় যুদ্ধের সময় তার ছেলে ও দুই ভাতিজা নিহত হন। ৭ অক্টোবরের হামলার পর নেতানিয়াহু যে ঐক্য সরকার গঠন করেছিলেন, আইজেনকটও প্রায় আট মাস সেই সরকারের অংশ ছিলেন।

অন্যদিকে নেতানিয়াহু দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও জাতীয় নিরাপত্তাকে নিজের নির্বাচনী প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরছেন। তিনি ইসরাইলের সবচেয়ে দীর্ঘসময় দায়িত্ব পালনকারী প্রধানমন্ত্রীদের একজন এবং লিকুদের নেতৃত্বে বহুবার নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।

তবে আইজেনকটের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। তিনি ইসরাইলি আরব নাগরিকদের প্রতিনিধিত্বকারী কয়েকটি দলের সঙ্গে জোট সরকার গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করেছেন। ফলে জরিপে বিরোধী দলগুলোর সম্মিলিত আসনসংখ্যা প্রয়োজনীয় সংখ্যার কাছাকাছি গেলেও সরকার গঠনের সমীকরণ জটিল হয়ে রয়েছে।

নির্বাচনকে ঘিরে ইসরাইলি সমাজেও বিভাজন স্পষ্ট। নেতানিয়াহুর সমর্থকদের পাশাপাশি তার সরকারের যুদ্ধনীতি, সামরিক বাধ্যতামূলক নিয়োগ এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে। বিশেষ করে আল্ট্রা-অর্থোডক্স বা হারেদি ইহুদিদের সামরিক নিয়োগ থেকে অব্যাহতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। ইসরাইলের সুপ্রিম কোর্ট ২০২৪ সালে হারেদি পুরুষদের সামরিক নিয়োগ থেকে অব্যাহতি বাতিল করলেও এ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক থামেনি।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

ইসরাইলে নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক বিভেদ তুঙ্গে: অনিশ্চিত নেতানিয়াহুর ভবিষ্যৎ

সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৪:৪৩:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

ইসরাইলে জাতীয় নির্বাচনের আর এক মাসেরও কম সময় বাকি। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলা এবং এরপর প্রায় তিন বছর ধরে গাজা, লেবানন ও ইরানকে ঘিরে যুদ্ধের পর দেশটির রাজনীতিতে গভীর পরিবর্তন এসেছে। আসন্ন নির্বাচন সেই পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট এবং তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক সামরিক প্রধান গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী শিবির—দুই পক্ষই ৬১ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজনীয় সীমা থেকে দূরে রয়েছে। ফলে নির্বাচন শেষে আবারও বিভক্ত পার্লামেন্ট বা নেসেট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সাম্প্রতিক চ্যানেল ১৩-এর জরিপে নেতানিয়াহু বিরোধী ইহুদি দলগুলো ৫২টি আসন এবং নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ৫১টি আসন পেতে পারে বলে দেখানো হয়েছে। আইজেনকটের ইয়াশার পার্টি ২২টি আসন এবং নেতানিয়াহুর লিকুদ ১৮টি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা দেখানো হয়েছে ওই জরিপে। তবে কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারেনি।

আইজেনকট ইসরাইল ডিফেন্স ফোর্সেসের (আইডিএফ) সাবেক চিফ অব স্টাফ। গাজায় যুদ্ধের সময় তার ছেলে ও দুই ভাতিজা নিহত হন। ৭ অক্টোবরের হামলার পর নেতানিয়াহু যে ঐক্য সরকার গঠন করেছিলেন, আইজেনকটও প্রায় আট মাস সেই সরকারের অংশ ছিলেন।

অন্যদিকে নেতানিয়াহু দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও জাতীয় নিরাপত্তাকে নিজের নির্বাচনী প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরছেন। তিনি ইসরাইলের সবচেয়ে দীর্ঘসময় দায়িত্ব পালনকারী প্রধানমন্ত্রীদের একজন এবং লিকুদের নেতৃত্বে বহুবার নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।

তবে আইজেনকটের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। তিনি ইসরাইলি আরব নাগরিকদের প্রতিনিধিত্বকারী কয়েকটি দলের সঙ্গে জোট সরকার গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করেছেন। ফলে জরিপে বিরোধী দলগুলোর সম্মিলিত আসনসংখ্যা প্রয়োজনীয় সংখ্যার কাছাকাছি গেলেও সরকার গঠনের সমীকরণ জটিল হয়ে রয়েছে।

নির্বাচনকে ঘিরে ইসরাইলি সমাজেও বিভাজন স্পষ্ট। নেতানিয়াহুর সমর্থকদের পাশাপাশি তার সরকারের যুদ্ধনীতি, সামরিক বাধ্যতামূলক নিয়োগ এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে। বিশেষ করে আল্ট্রা-অর্থোডক্স বা হারেদি ইহুদিদের সামরিক নিয়োগ থেকে অব্যাহতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। ইসরাইলের সুপ্রিম কোর্ট ২০২৪ সালে হারেদি পুরুষদের সামরিক নিয়োগ থেকে অব্যাহতি বাতিল করলেও এ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক থামেনি।