২০২৪ ও ২০২৫ সালের তুলনায় চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়ে গত দুই বছরের রেকর্ড ভেঙেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসটি ডেঙ্গুর সবচেয়ে ভয়ংকর রূপ নিয়ে হাজির হয়েছে। শুধু সেপ্টেম্বরেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দেশের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছেন ৪৩ হাজার ৭৭৪ জন এবং মারা গেছেন ১৪৮ জন। তুলনামূলকভাবে গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১৫ হাজার ৮৬৬ এবং মৃত্যু হয়েছিল ৭৬ জনের, আর ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে আক্রান্ত হয়েছিল ১৮ হাজার ০৯৭ জন ও মৃত্যু হয়েছিল ৮০ জনের।
চলতি বছরের সামগ্রিক চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে ডেঙ্গুতে মোট আক্রান্ত হয়েছেন ৭৯ হাজার ৬২০ জন এবং প্রাণ হারিয়েছেন ২৪৫ জন। এর বিপরীতে ২০২৫ সালের প্রথম ৯ মাসে আক্রান্ত হয়েছিল ৪৭ হাজার ৩৪২ জন (মৃত্যু ১৯০+), এবং ২০২৪ সালের একই সময়ে আক্রান্ত ছিল ৩০ হাজার ৯৩৮ জন (মৃত্যু ১৬৩)। মাসভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বছরের শুরু থেকেই সংক্রমণ কম থাকলেও জুনের পর থেকে তা দ্রুত বাড়তে থাকে এবং আগস্টে তা ২০ হাজারের ঘর পেরিয়ে সেপ্টেম্বরে এক লাফে ৪৩ হাজারে গিয়ে দাঁড়ায়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মতে, যদিও ২০২৩ সালের ভয়াবহতার রেকর্ড এখনো অতিক্রম হয়নি, তবে গত দুই বছরের তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক পরিস্থিতির পর ২০২৬ সালে ডেঙ্গুর এই ঊর্ধ্বমুখী বিস্তার জনস্বাস্থ্যকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলছে।
ডেঙ্গুর এই ক্রমবর্ধমান পরিস্থিতির কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. বেনজির আহমেদ জানিয়েছেন যে, দেশে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে কোনো কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদী উদ্যোগের অভাব রয়েছে। প্রচলিত ব্যবস্থা দিয়ে এই মশা দমন কঠিন হয়ে পড়েছে এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। তিনি সতর্ক করে বলেছেন যে অক্টোবরেও ডেঙ্গু আক্রান্তের হার আরও বাড়তে পারে এবং নভেম্বর-ডিসেম্বরে সংক্রমণ পুরোপুরি না কমলেও কিছুটা কমে আসতে পারে। এছাড়া ডেঙ্গু প্রতিরোধে আন্তর্জাতিকভাবে ব্যবহৃত টিকার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বাংলাদেশে টিকা চালুর আগে এর কার্যকারিতা, বাস্তবায়ন সক্ষমতা এবং পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর অভিজ্ঞতা যাচাইয়ের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট ফিজিবিলিটি স্টাডি করা অত্যন্ত জরুরি।


























