হবিগঞ্জ-মৌলভীবাজার-সিলেট সড়কে চলাচলকারী বাস মৌলভীবাজারে আটকে রাখা এবং পরিবহন শ্রমিকদের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদে হবিগঞ্জে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর ২০২৬) সকাল থেকে হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের ডাকে জেলার সব সড়কে সকল ধরনের গণপরিবহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে, যার ফলে সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
এর আগে গত মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এই ধর্মঘটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আবু মঈন চৌধুরী সোহেল। তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের বিরতিহীন এক্সপ্রেস বাসের চালক ও শ্রমিকদের মৌলভীবাজারের এসএমএস পরিবহন শ্রমিক ও মালিকরা শেরপুরে আটকে রেখে গাড়ি ভাঙচুর এবং শ্রমিকদের মারধর করে আসছেন। এমনকি বর্তমানে তাদের তিনটি গাড়ি মৌলভীবাজারের কার্যালয়ের সামনে আটকে রাখা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। একাধিকবার বৈঠক হওয়া সত্ত্বেও কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত না হওয়ার কারণেই ১ অক্টোবর থেকে ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে এবং দাবি পূরণ ও বিরোধের স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত জেলার কোনো সড়কে গণপরিবহন চলবে না বলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন।
হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপ ও মৌলভীবাজারের এসএমএস পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের মধ্যে বাস চলাচলে বাধা, শ্রমিক নির্যাতন ও গাড়ি ভাঙচুর নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধ চলে আসছে। এই বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে গত ১২ জুন সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে জাতীয় সংসদের হুইপ আলহাজ্ব জি কে গউছ এমপির নেতৃত্বে পাঁচজন সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের বিভাগীয় কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে একটি সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তবে সেই বৈঠকের পরও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের অভিযোগ, গত ১১ সেপ্টেম্বর এবং সর্বশেষ ২৪ সেপ্টেম্বর সিলেট থেকে ছেড়ে আসা তিনটি বিরতিহীন এক্সপ্রেস বাস মৌলভীবাজারে পৌঁছালে সেগুলো পুনরায় আটক করা হয়। মূলত এই ঘটনার প্রতিবাদেই অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে। ধর্মঘট কর্মসূচির পাশাপাশি গত মঙ্গলবার এ বিষয়ে সিলেটের বিভাগীয় কমিশনারের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক স্মারকলিপিও প্রদান করেছে হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপ।


























