সুনামগঞ্জ জেলার সদর উপজেলা এলাকায় পারিবারিক মনস্তাপ ও কলহের জের ধরে রেজিনা বেগম (৭৪) নামের এক প্রবীণ নারীকে নির্মমভাবে কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যার তীব্র অভিযোগ উঠেছে তাঁরই আপন সন্তান নুর আলমের বিরুদ্ধে। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশের পরপরই অভিযুক্ত নুর আলমকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে নিজেদের হেফাজতে গ্রহণ করেছে।
আজ শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) খুব ভোরের দিকে উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের কাইয়ারগাঁও গ্রামের নিজ আবাসে এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়। পরলোকগত রেজিনা বেগম উক্ত গ্রামেরই স্থায়ী অধিবাসী ছিলেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় সূত্রে তথ্য পাওয়া গেছে যে, ঘরোয়া কোন্দল ও বিরোধের সূত্র ধরে নুর আলম নিজ মাতাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে জবাই করে হত্যা করেন বলে জানা গেছে। ঘটনার খবর পাওয়ার সাথে সাথেই সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানা-পুলিশের একটি দল দ্রত দুর্ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে।
পরবর্তী সময়ে উদ্ধার করা দেহটি সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত সম্পাদনের তাগিদে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে স্থানান্তর করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ঘটনার মূল অভিযুক্ত পুত্র নুর আলমকে পুলিশ গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে।
বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রতন শেখ জানান, সন্তান কর্তৃক মাতাকে নির্মমভাবে হত্যার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত এলাকা থেকে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার পেছনে দায়ী নুর আলমকে ইতোমধ্যে আটক করা হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইনে উপযুক্ত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
অন্যান্য সূত্রে জানা গেছে, ধৃত অভিযুক্ত নুর আলম দীর্ঘদিন ধরে নানাবিধ মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছিলেন। তবে এই সংক্রান্ত বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অথবা চিকিৎসাসংক্রান্ত কোনো দলিল নিশ্চিত হলে তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রকাশ করা সমীচীন হবে।


























