Dhaka ১১:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

মিয়ানমারের কারাগারে লক্ষ্মীপুরের ৯ জেলের ৬ মাস বন্দিদশা

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ০২:২২:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১৯ বার দেখা হয়েছে

বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে মিয়ানমারের কারাগারে গত ছয় মাস ধরে বন্দি রয়েছেন লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও কমলনগর উপজেলার ৯ জন জেলে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিরা দীর্ঘ সময় ধরে বন্দি থাকায় চরম আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন তাঁদের স্বজনরা এবং জেলেদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার অপেক্ষায় চরম উৎকণ্ঠায় দিন পার করছেন পরিবারের সদস্যরা।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ২৩ মার্চ ‘মা-বাবার দোয়া’ নামের একটি ট্রলারে করে লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী ও চট্টগ্রামের ১৬ জন জেলে মহেশখালীর হোয়ানক ইউনিয়ন থেকে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। এর পরদিন থেকেই তাদের সঙ্গে সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং ২৮ মার্চ ট্রলারের মালিক মহেশখালী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরবর্তীতে জানা যায়, মাছ ধরতে গিয়ে ঝড়ের কবলে পড়ে তাদের ট্রলারটি মিয়ানমারের জলসীমায় প্রবেশ করলে সেদেশের সেনাবাহিনী তাদের আটক করে।

রামগতি উপজেলার কোহিনূর বেগমের দুই ছেলে তামজিদ ও তাহমিদ এই ঘটনায় মিয়ানমারে আটক হয়েছিলেন। সম্প্রতি ছোট ছেলে তাহমিদ দূতাবাসের মাধ্যমে দেশে ফিরতে সক্ষম হলেও বড় ছেলে তামজিদ এখনো বন্দি রয়েছেন। ছেলের ছবি বুকে জড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়া কোহিনূর বেগম ধারদেনা করে ছোট ছেলেকে ফিরিয়ে আনতে পারলেও বড় ছেলেকে দ্রুত দেশে ফেরাতে সরকারের জরুরি সহযোগিতা কামনা করেছেন। অন্যদিকে, আরেক বন্দি জেলে জাবের হোসেনের স্ত্রী রাশেদা বেগম স্বামী ছাড়া দুই সন্তান নিয়ে চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন এবং অন্যের বাড়িতে রান্নার কাজ করে সংসার সচল রাখছেন।

রামগতি ও কমলনগরের বন্দি জেলেদের পরিবারগুলো তাদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি সরকারি আর্থিক সহায়তার জোরালো দাবি জানিয়েছে। এ বিষয়ে রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ এহসান উদ্দীন জানান, বন্দি জেলেদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। জাতীয় সংসদের হুইপ ও স্থানীয় সংসদ সদস্য এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজানের সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

মিয়ানমারের কারাগারে লক্ষ্মীপুরের ৯ জেলের ৬ মাস বন্দিদশা

সর্বশেষ হালনাগাদ : ০২:২২:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে মিয়ানমারের কারাগারে গত ছয় মাস ধরে বন্দি রয়েছেন লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও কমলনগর উপজেলার ৯ জন জেলে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিরা দীর্ঘ সময় ধরে বন্দি থাকায় চরম আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন তাঁদের স্বজনরা এবং জেলেদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার অপেক্ষায় চরম উৎকণ্ঠায় দিন পার করছেন পরিবারের সদস্যরা।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ২৩ মার্চ ‘মা-বাবার দোয়া’ নামের একটি ট্রলারে করে লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী ও চট্টগ্রামের ১৬ জন জেলে মহেশখালীর হোয়ানক ইউনিয়ন থেকে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। এর পরদিন থেকেই তাদের সঙ্গে সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং ২৮ মার্চ ট্রলারের মালিক মহেশখালী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরবর্তীতে জানা যায়, মাছ ধরতে গিয়ে ঝড়ের কবলে পড়ে তাদের ট্রলারটি মিয়ানমারের জলসীমায় প্রবেশ করলে সেদেশের সেনাবাহিনী তাদের আটক করে।

রামগতি উপজেলার কোহিনূর বেগমের দুই ছেলে তামজিদ ও তাহমিদ এই ঘটনায় মিয়ানমারে আটক হয়েছিলেন। সম্প্রতি ছোট ছেলে তাহমিদ দূতাবাসের মাধ্যমে দেশে ফিরতে সক্ষম হলেও বড় ছেলে তামজিদ এখনো বন্দি রয়েছেন। ছেলের ছবি বুকে জড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়া কোহিনূর বেগম ধারদেনা করে ছোট ছেলেকে ফিরিয়ে আনতে পারলেও বড় ছেলেকে দ্রুত দেশে ফেরাতে সরকারের জরুরি সহযোগিতা কামনা করেছেন। অন্যদিকে, আরেক বন্দি জেলে জাবের হোসেনের স্ত্রী রাশেদা বেগম স্বামী ছাড়া দুই সন্তান নিয়ে চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন এবং অন্যের বাড়িতে রান্নার কাজ করে সংসার সচল রাখছেন।

রামগতি ও কমলনগরের বন্দি জেলেদের পরিবারগুলো তাদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি সরকারি আর্থিক সহায়তার জোরালো দাবি জানিয়েছে। এ বিষয়ে রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ এহসান উদ্দীন জানান, বন্দি জেলেদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। জাতীয় সংসদের হুইপ ও স্থানীয় সংসদ সদস্য এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজানের সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।