উত্তর আফ্রিকার দেশ মরক্কো ১৯৫৬ সালে স্বাধীনতা লাভ করার পর এই প্রথম কোনো নারী প্রধানমন্ত্রী পেলেন। দেশটির বাদশাহ ষষ্ঠ মোহাম্মদ ৫০ বছর বয়সী ফাতিমা এজ্জাহরা এল মানসুরিকে নতুন সরকার গঠনের অনুমোদন দিয়েছেন। গত সপ্তাহের সংসদীয় নির্বাচনে ফাতিমা মানসুরির মধ্যপন্থী দল ‘অথেনটিসিটি অ্যান্ড মডার্নিটি পার্টি’ (পিএএম) সবচেয়ে বেশি ভোট লাভ করার পর তাকে এই গুরুদায়িত্ব দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার রাজপ্রাসাদের এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয় যে, এল মানসুরিকে নতুন সরকার গঠনের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি দেশটির নগর পরিকল্পনামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং এর আগে ঐতিহাসিক মারাকেশ শহরের মেয়র হিসেবেও সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণের ফল প্রকাশের চার দিন পর এই ঐতিহাসিক ঘোষণাটি আসে। মরক্কোর নির্বাচনি ব্যবস্থায় কোনো একক রাজনৈতিক দলের পক্ষে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করা বেশ কঠিন হওয়ায়, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ফাতিমা মানসুরিকে একটি কার্যকর জোট সরকার গঠন করতে হবে।
টেলিভিশনে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় নিজের এই নিয়োগকে ‘সত্যিই ঐতিহাসিক’ বলে অভিহিত করেছেন এল মানসুরি। তিনি বলেন, “আমাদের দেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো নারী সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নিচ্ছেন। এটি শুধু আমার জন্য নয়, মরক্কোর সব নারীর জন্যই অত্যন্ত গর্বের বিষয়।”
১৯৭৬ সালে মারাকেশে জন্মগ্রহণকারী ফাতিমা মানসুরি শিক্ষাজীবনে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। তিনি ফ্রান্সের মন্টপেলিয়ের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর শিক্ষার ডিপ্লোমা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অ্যাংলো-স্যাক্সন ব্যবসায়িক আইনে ডিপ্লোমা অর্জন করেন। এর আগে ২০০৯ সালে মারাকেশের মেয়র নির্বাচিত হয়ে তিনি শহরটির প্রথম নারী মেয়র হওয়ার গৌরব অর্জন করেছিলেন। প্রথম মেয়াদ সফলভাবে শেষ করার পর ২০২১ সালেও তিনি পুনরায় মেয়র হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।
উল্লেখ্য, মরক্কোর রাজনীতিতে পিএএম একটি অন্যতম প্রধান দল, যা ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। আগামী দিনে মরক্কো, পর্তুগাল ও স্পেনের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিতব্য ২০৩০ সালের ফিফা বিশ্বকাপের প্রস্তুতি এবং কয়েক বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক বিনিয়োগ বণ্টন ও ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে নতুন সরকারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সামাজিক উন্নয়নকে সামনে রেখে নতুন প্রধানমন্ত্রীর এই যাত্রা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।























