যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভা কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ ‘হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস’ বা প্রতিনিধি পরিষদে বহুল আলোচিত ‘রাশিয়া নিষেধাজ্ঞা আইন’ সংক্রান্ত বিলটি পাস হয়েছে। এর ফলে ওয়াশিংটনের বাজারে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে ভারতসহ বিশ্বের ১০টি দেশ এখন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্কের তীব্র ঝুঁকির মুখে পড়ল।
যুক্তরাষ্ট্রের এই কঠোর রাজস্ব ও বাণিজ্য ব্যবস্থার আওতায় আসা অন্য দেশগুলো হলো— চীন, হাঙ্গেরি, আজারবাইজান, তুরস্ক, স্লোভাকিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, কাজাখস্তান এবং কিরগিজস্তান।
আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)-এর এক প্রতিবেদনে জানা যায়, বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) নিম্নকক্ষে আইনপ্রণেতাদের চূড়ান্ত ভোটের জন্য বিলটি পেশ করা হয়। পরিষদের ৪৩৫ জন প্রতিনিধির মধ্যে ৪২১ জন প্রতিনিধি সরাসরি ভোটদানে অংশ নেন। গণনা শেষে দেখা যায়, প্রস্তাবিত বিলটির সপক্ষে ২৬২ জন এবং বিপক্ষে ১৫৯ জন সদস্য রায় দেন।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেটে বিলটি আগেই অনুমোদিত হয়েছিল। প্রতিনিধি পরিষদে পাস হওয়ার পর চূড়ান্ত ধাপ হিসেবে বিলটি এখন মার্কিন প্রেসিডেন্টের কার্যালয় হোয়াইট হাউসে পাঠানো হবে। সেখানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিলে স্বাক্ষর প্রদান করলেই তা পূর্ণাঙ্গ ও কার্যকর আইনে পরিণত হবে।
‘রাশিয়া নিষেধাজ্ঞা আইন’ বিলটির মূল প্রেক্ষাপট হলো— ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রুশ সামরিক অভিযান শুরুর পরপরই রাশিয়ার অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলো। তবে সেই আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে যেসকল রাষ্ট্র নিয়মিতভাবে মস্কোর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ তেল ক্রয় চালিয়ে যাচ্ছে, তারা প্রকারান্তরে অর্থনৈতিক সহায়তার মাধ্যমে এই যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করতে সাহায্য করছে বলে মনে করে ওয়াশিংটন। ফলে শাস্তি হিসেবে রাশিয়ার নিকট থেকে তেল কেনা এসব দেশের পণ্যের ওপর মার্কিন বাজারে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসানোর বিধান রাখা হয়েছে।
উক্ত খসড়া আইনের প্রধান পরিকল্পনাকারী ও প্রস্তাবক ছিলেন মার্কিন প্রবীণ সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম, যিনি একাধারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অনুসারী এবং ইউক্রেনের জোরালো সমর্থক ছিলেন। চলতি বছরের ৭ আগস্ট সিনেটে এই বিলটি অনুমোদিত হওয়ার ঠিক ৪ দিনের মাথায় ওয়াশিংটনে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।























