এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার খাতা পুনর্মূল্যায়নে প্রায় ৫ হাজার শিক্ষার্থী ফেল থেকে পাস করায় পরীক্ষকদের মূল্যায়নে গুরুতর দুর্বলতা ও ব্যর্থতা প্রমাণিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন। তিনি জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকদের চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন এবং স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পূর্বে খাতা পুনর্মূল্যায়নের কোনো সুযোগ ছিল না; কেবল টেবুলেশন শিট থেকে নম্বর যোগ করা হতো। এবার আইনগতভাবে ১৯৮০ সালের অ্যাক্টের মধ্যে খাতা পুনর্মূল্যায়নের ব্যবস্থা সংযোজন করা হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, এবারের পুনর্মূল্যায়নের জন্য চার লাখ আবেদন জমা পড়েছিল। এর মধ্যে তত্ত্বীয় স্ক্রিপ্টের জন্য ১০ লাখ ৫৬ হাজার এবং ব্যবহারিক স্ক্রিপ্টের জন্য ২ লাখ ৩১ হাজার আবেদন ছিল। অর্থাৎ, মোট স্ক্রিপ্টের আবেদন ছিল ১২ লাখ ৮৭ হাজার, যা পাসের সংখ্যার চেয়েও বেশি।
এহছানুল হক মিলন আরও জানান, পুনর্মূল্যায়নের ফলে ২৭ হাজার ৮৩৬ জনের গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে এবং ৫৬ হাজার ২৫৯ জনের নম্বর পরিবর্তিত হয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, ৪ হাজার ৫৮৫ জন শিক্ষার্থী ফেল থেকে পাস করেছে।
তিনি বলেন, “প্রায় ৫ হাজার শিক্ষার্থী যারা ফেল করেছিল, পরে দেখা গেল যে তারা পাস করেছে। আর সবচেয়ে বড় সারপ্রাইজ হওয়ার বিষয়টি হলো—৩ হাজার ৭৯ জন জিপিএ-৫ বা এ প্লাস পেয়েছে। বিগত দিনগুলোতে এই ব্যবস্থাটি না থাকার কারণে কত ছাত্র-ছাত্রী তাদের সঠিক রেজাল্ট থেকে বঞ্চিত হয়েছে?” শিক্ষামন্ত্রী উল্লেখ করেন, অনেক পরীক্ষার্থী আত্মহত্যা করে, যা লক্ষ্য করেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং তিনি আশা করেন, এই ব্যবস্থার ফলে ভবিষ্যতে আর কেউ আত্মহত্যা করবে না।
শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, ভবিষ্যতে শিক্ষাব্যবস্থায় আরও কিছু নতুন চমক আসবে। তিনি বলেন, “আমরা দেখাতে পেরেছি যে, খাতা পুনর্মূল্যায়নের বিষয়ে আমাদের পরীক্ষকদের দুর্বলতা রয়েছে। এই খাতাগুলো আলাদা করে ফেলা হয়েছে এবং আরেকটি কমিটি করে এই মূল্যায়িত খাতাগুলোর কার কী কী দুর্বলতা রয়েছে, সেগুলো আমরা পুনর্মূল্যায়ন করে সেইভাবে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করব।”
যারা এই মূল্যায়নে ব্যর্থ হয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তা আগামীতে সবাই জানতে পারবেন বলেও শিক্ষামন্ত্রী উল্লেখ করেন। ইতোমধ্যে ব্যর্থ পরীক্ষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।






















