এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাস করার মতো যোগ্য শিক্ষার্থীদের খাতা মূল্যায়নে অবহেলার কারণে ফেল করানোর সঙ্গে জড়িত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ‘বিশ্ব শিক্ষক দিবস-২০২৬’ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির সভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন। মন্ত্রী বলেন যে, এবারের ফলাফলে দেখা গেছে বহু শিক্ষার্থী যারা প্রকৃতপক্ষে পাস করার যোগ্য ছিল, তাদেরকে অযৌক্তিকভাবে ফেল করানো হয়েছে, যা মূলত পরীক্ষকদের খাতা মূল্যায়নে উদাসীনতা ও অবহেলার ফল।
অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন যে, দায়িত্বে অবহেলা করে যোগ্য শিক্ষার্থীদের ফেল করানো এসব শিক্ষককে এরই মধ্যে খুঁজে বের করা হয়েছে। তাদের কর্মকাণ্ডের পুঙ্খানুপুঙ্খ খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণসহ অন্যান্য বাধ্যতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে শিগগিরই বিস্তারিত তথ্য গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এই ধরনের দায়িত্বহীনতা শিক্ষার মান ও স্বচ্ছতার পরিপন্থী এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে মন্ত্রণালয় জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করবে বলে তিনি স্পষ্ট করেন।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষকদের বদলি সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান যে, শুধু সাধারণ বদলি নয়, বরং এনটিআরসিএ (NTRCA)-এর অধীনেও অনলাইনে শিক্ষক বদলির ব্যবস্থা চালুর কাজ জোরেশোরে এগিয়ে চলছে। তবে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার আগে যেসব শিক্ষককে বিকল্প হিসেবে রিপ্লেসমেন্ট করতে হবে এবং যারা বর্তমানে অ্যাটাচমেন্টে রয়েছেন, সেই জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো যথাযথভাবে সেটেল বা নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন। বর্তমানে বদলির ফাইলগুলো নিয়ে এনটিআরসিএ কাজ করছে এবং সব প্রক্রিয়া খুব দ্রুত গুছিয়ে এনে শিগগিরই এই অনলাইন বদলি কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


























