যশোরে দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে নির্যাতনের পর হত্যার অভিযোগে স্থানীয় আটজন ইসকন সদস্যের বিরুদ্ধে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহত শিপ্রা ঘোষ স্থানীয় ভাতুড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন। গত রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) ভুক্তভোগী ছাত্রীর ভাই পাপন কুমার ঘোষ বাদী হয়ে এই মামলা দায়ের করেন এবং সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বাদীর আইনজীবী এম এ গফুর মামলার বিষয়টি গণমাধ্যমের কাছে নিশ্চিত করেন। মামলায় অভিযুক্ত আসামিরা হলেন—অনুপম রায় ওরফে অপার গোবিন্দ দাস (৪০), সাধন অধিকারী (৫৮), রাম অধিকারী (৫৫), অর্জুন দাস, পার্থ দাস, পবিত্র, সঞ্জয় ও রঘু।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে যে, স্কুলে যাওয়া-আসার পথে প্রধান অভিযুক্ত অনুপম রায় স্থানীয় সহযোগীদের নিয়ে শিপ্রা ঘোষকে নিয়মিত যৌন হয়রানি ও উত্ত্যক্ত করতেন। এর ধারাবাহিকতায় গত ১৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় আসামিরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে শিপ্রাদের বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় শিপ্রাকে মারধর ও যৌন হয়রানি করা হলে তাঁর চিৎকারে মা এগিয়ে আসেন এবং তাঁকেও মারধর করা হয়। একপর্যায়ে শিপ্রার মাকে ঘর থেকে বের করে দিয়ে শিপ্রাকে ঘরের ভেতর আটকে রাখা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘরের ভেতর নির্যাতনের পর অনুপম রায় ও তাঁর সহযোগীরা মিলে শিপ্রাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। হত্যাকাণ্ডটিকে আত্মহত্যা হিসেবে চালানোর উদ্দেশ্যে তারা ওড়না দিয়ে শিপ্রার মরদেহ ঘরের খুঁটির সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে পালিয়ে যান। পরবর্তীতে নিহতের ভাই পাপন কুমার ঘোষ বাড়িতে ফিরে শিপ্রাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান এবং দ্রুত উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনার পর পুলিশ মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। এ বিষয়ে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন জানান যে আদালত থেকে এখনও মামলা সংক্রান্ত কোনো আদেশ এসে পৌঁছায়নি, তবে আদেশ পাওয়ার পর যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


























