Dhaka ০৪:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

সৌদি আরবের পরমাণু অস্ত্র তৈরির শঙ্কা: মার্কিন গোয়েন্দা নথিতে চাঞ্চল্যকর তথ্য, কংগ্রেসে উদ্বেগ

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ১২:১১:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২৩ বার দেখা হয়েছে

পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করেনি রিয়াদ; ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি ঘিরে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের মধ্যে বাড়ছে দুশ্চিন্তা।

সৌদি আরব পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা একেবারে বাতিল করে দেয়নি—সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। এই তথ্য সামনে আসার পর রিয়াদের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে উদ্বেগ আরও ঘনীভূত হয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’ জানিয়েছে, গত মাসে কংগ্রেসে পাঠানো বেশ কিছু গোপন নথিতে এ-সংক্রান্ত গোয়েন্দা মূল্যায়ন তুলে ধরা হয়েছে। অবশ্য নথিগুলো এখনো জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। এ ব্যাপারে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ কোনো ধরনের মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

সৌদি আরবে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোকে পারমাণবিক জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রকল্প শুরুর সুযোগ করে দিতে প্রস্তাবিত একটি চুক্তি বর্তমানে মার্কিন কংগ্রেসের পর্যালোচানাধীন রয়েছে। ঠিক এমনই এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এই গোপন গোয়েন্দা নথিগুলো আইনপ্রণেতাদের হাতে পৌঁছেছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, সৌদি আরবের সঙ্গে এই অংশীদারত্ব কেবল দুই দেশের সম্পর্ককেই আরও সুদৃঢ় করবে না, বরং মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্যও বিশাল ব্যবসায়িক সুযোগ সৃষ্টি করবে। একই সঙ্গে পারমাণবিক প্রযুক্তির জন্য সৌদি আরব যেন রাশিয়া কিংবা চীনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে না পড়ে, তা-ও এর মাধ্যমে নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে প্রশাসন।

চুক্তিটির সপক্ষে যুক্তি তুলে ধরে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর স্পষ্ট করেছে যে, সৌদি আরবের কোনো ধরনের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচিকে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন করে না এবং ভবিষ্যতেও তা করবে না।

গোয়েন্দা মূল্যায়নের বিষয়ে ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’-এর প্রশ্নের সরাসরি কোনো উত্তর দেয়নি সৌদি সরকার। তবে তারা দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী আবদুল আজিজ বিন সালমানের পূর্ববর্তী একটি বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনেছে। ওই বক্তব্যে মন্ত্রী জানিয়েছিলেন, সৌদি আরবের পারমাণবিক কর্মসূচি হবে শতভাগ ‘শান্তিপূর্ণ’ এবং ‘দায়িত্বশীলতা ও স্বচ্ছতার সর্বোচ্চ মানদণ্ড’ বজায় রেখেই তা বাস্তবায়ন করা হবে।

‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’ এবং ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর প্রতিবেদন অনুসারে, প্রস্তাবিত চুক্তির প্রাথমিক শর্তানুযায়ী সৌদি আরবকে ৫ শতাংশের নিচে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অনুমতি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে পৃথক একটি চুক্তির আওতায় পরবর্তীতে এই সমৃদ্ধকরণের মাত্রা ২০ শতাংশ পর্যন্ত উন্নীত করার সুযোগ দেওয়া হতে পারে।

২০ শতাংশ মাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরাসরি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির উপযোগী পর্যায়ে না পৌঁছালেও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই মাত্রায় সমৃদ্ধকরণের সক্ষমতা অর্জন করলে অস্ত্র তৈরির উপযোগী উপাদান উৎপাদনের পথে সৌদি আরব প্রযুক্তিগতভাবে অনেকটাই এগিয়ে যেতে পারে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সময় এবং প্রযুক্তিগত অবকাঠামো গড়ে তোলার পথও এতে অনেক সহজ হতে পারে বলে তাদের ধারণা।

তথ্যসূত্র: গালফ নিউজ

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

সৌদি আরবের পরমাণু অস্ত্র তৈরির শঙ্কা: মার্কিন গোয়েন্দা নথিতে চাঞ্চল্যকর তথ্য, কংগ্রেসে উদ্বেগ

সর্বশেষ হালনাগাদ : ১২:১১:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করেনি রিয়াদ; ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি ঘিরে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের মধ্যে বাড়ছে দুশ্চিন্তা।

সৌদি আরব পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা একেবারে বাতিল করে দেয়নি—সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। এই তথ্য সামনে আসার পর রিয়াদের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে উদ্বেগ আরও ঘনীভূত হয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’ জানিয়েছে, গত মাসে কংগ্রেসে পাঠানো বেশ কিছু গোপন নথিতে এ-সংক্রান্ত গোয়েন্দা মূল্যায়ন তুলে ধরা হয়েছে। অবশ্য নথিগুলো এখনো জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। এ ব্যাপারে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ কোনো ধরনের মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

সৌদি আরবে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোকে পারমাণবিক জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রকল্প শুরুর সুযোগ করে দিতে প্রস্তাবিত একটি চুক্তি বর্তমানে মার্কিন কংগ্রেসের পর্যালোচানাধীন রয়েছে। ঠিক এমনই এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এই গোপন গোয়েন্দা নথিগুলো আইনপ্রণেতাদের হাতে পৌঁছেছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, সৌদি আরবের সঙ্গে এই অংশীদারত্ব কেবল দুই দেশের সম্পর্ককেই আরও সুদৃঢ় করবে না, বরং মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্যও বিশাল ব্যবসায়িক সুযোগ সৃষ্টি করবে। একই সঙ্গে পারমাণবিক প্রযুক্তির জন্য সৌদি আরব যেন রাশিয়া কিংবা চীনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে না পড়ে, তা-ও এর মাধ্যমে নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে প্রশাসন।

চুক্তিটির সপক্ষে যুক্তি তুলে ধরে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর স্পষ্ট করেছে যে, সৌদি আরবের কোনো ধরনের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচিকে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন করে না এবং ভবিষ্যতেও তা করবে না।

গোয়েন্দা মূল্যায়নের বিষয়ে ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’-এর প্রশ্নের সরাসরি কোনো উত্তর দেয়নি সৌদি সরকার। তবে তারা দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী আবদুল আজিজ বিন সালমানের পূর্ববর্তী একটি বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনেছে। ওই বক্তব্যে মন্ত্রী জানিয়েছিলেন, সৌদি আরবের পারমাণবিক কর্মসূচি হবে শতভাগ ‘শান্তিপূর্ণ’ এবং ‘দায়িত্বশীলতা ও স্বচ্ছতার সর্বোচ্চ মানদণ্ড’ বজায় রেখেই তা বাস্তবায়ন করা হবে।

‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’ এবং ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর প্রতিবেদন অনুসারে, প্রস্তাবিত চুক্তির প্রাথমিক শর্তানুযায়ী সৌদি আরবকে ৫ শতাংশের নিচে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অনুমতি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে পৃথক একটি চুক্তির আওতায় পরবর্তীতে এই সমৃদ্ধকরণের মাত্রা ২০ শতাংশ পর্যন্ত উন্নীত করার সুযোগ দেওয়া হতে পারে।

২০ শতাংশ মাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরাসরি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির উপযোগী পর্যায়ে না পৌঁছালেও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই মাত্রায় সমৃদ্ধকরণের সক্ষমতা অর্জন করলে অস্ত্র তৈরির উপযোগী উপাদান উৎপাদনের পথে সৌদি আরব প্রযুক্তিগতভাবে অনেকটাই এগিয়ে যেতে পারে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সময় এবং প্রযুক্তিগত অবকাঠামো গড়ে তোলার পথও এতে অনেক সহজ হতে পারে বলে তাদের ধারণা।

তথ্যসূত্র: গালফ নিউজ