ইংল্যান্ডের ক্যামব্রিজশায়ারের নীরব রাতটি আচমকাই রক্তাক্ত বিভীষিকায় ভরে উঠল। চলন্ত ট্রেনের ভেতর আতঙ্কের আর্তনাদ ছড়িয়ে পড়ল একের পর এক ছুরিকাঘাতে। যুক্তরাজ্যের পুলিশ জানিয়েছে, অন্তত ১০ জনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এই ভয়াবহ হামলার পর, এবং ইতিমধ্যে দুইজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ব্রিটিশ ট্রান্সপোর্ট পুলিশ এক্স (পূর্বের টুইটার)-এ জানায়, আহতদের মধ্যে অন্তত নয়জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ঘটনার পরপরই “বড় ধরনের জরুরি পরিস্থিতি” ঘোষণা করা হয়, এবং তদন্তে সহায়তা করছে সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিট।
শনিবার রাত ৭টা ৩৯ মিনিটে একাধিক মানুষকে ছুরিকাঘাতের খবর পেয়ে ক্যামব্রিজশায়ার পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। অস্ত্রধারী পুলিশ দ্রুত ট্রেন থামায় হান্টিংডন স্টেশনে, সেখানেই দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
রাত গভীর হতেই জরুরি চিকিৎসা দল হান্টিংডন স্টেশনে জড়ো হয়—অগণিত অ্যাম্বুলেন্স, ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিট, এমনকি তিনটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্সও অংশ নেয় আহতদের উদ্ধার অভিযানে।
এক প্রত্যক্ষদর্শী দ্য টাইমস পত্রিকাকে জানান, “একজন মানুষ বড় ছুরি হাতে ট্রেনে তাণ্ডব চালাচ্ছিল। চারদিকে শুধু রক্ত… মানুষ বাথরুমে লুকিয়েছিল। কেউ কেউ দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করছিল, কেউ পড়ে যাচ্ছিল অন্যের পায়ের নিচে।”
আরেকজন স্কাই নিউজ-কে জানান, এক সন্দেহভাজনকে পুলিশ টেজার দিয়ে আটক করে।
এই ঘটনায় যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টার্মার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি এক্স-এ লেখেন, “এই ঘটনা ভয়াবহ। আমি আহতদের প্রতি সমবেদনা জানাই এবং জরুরি সেবাদানকারী দলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।”
স্টার্মার সকলকে পুলিশের নির্দেশ মেনে চলার আহ্বান জানান।
লন্ডন নর্থ ইস্টার্ন রেলওয়ে (এলএনইআর), যাদের ট্রেনে ঘটনাটি ঘটেছে, জানিয়েছে—জরুরি উদ্ধার কাজ চলার কারণে হান্টিংডন স্টেশনের সব রেললাইন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে পূর্ব ইংল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডে চলাচলরত ট্রেন সার্ভিসে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে।
ক্যামব্রিজশায়ার ও পিটারবরোর মেয়র পল ব্রিস্টো এক্স-এ লিখেছেন, “হান্টিংডনের ট্রেনে ঘটে যাওয়া ভয়ংকর দৃশ্যের খবর শুনে শোকাহত। আক্রান্ত সবার জন্য প্রার্থনা করছি।”
ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে ছুরি-সহিংসতার মাত্রা ২০১১ সাল থেকে ক্রমেই বাড়ছে। বিশ্বের অন্যতম কঠোর অস্ত্রনিয়ন্ত্রণ আইনের দেশ হওয়া সত্ত্বেও যুক্তরাজ্যে ছুরি-অপরাধ এখন এক “জাতীয় সংকট” বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী স্টার্মার।
তার সরকার এই সহিংসতা কমাতে ব্যাপক অভিযান চালাচ্ছে। স্বরাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরেই প্রায় ৬০ হাজার ছুরি উদ্ধার বা আত্মসমর্পণ করা হয়েছে। ছুরি বহনের শাস্তি ইতোমধ্যে চার বছরের কারাদণ্ড নির্ধারিত, আর সরকার দাবি করেছে, ছুরি-হত্যার ঘটনা গত এক বছরে ১৮ শতাংশ কমেছে।
গত অক্টোবরেই ম্যানচেস্টারের এক উপাসনালয়ে ছুরিকাঘাতে দুইজন নিহত হয়েছিলেন—তাদের একজন পুলিশের ভুলবশত গুলিতে। সেই ঘটনার রক্তচিহ্ন শুকানোর আগেই ইংল্যান্ড আবারও কেঁপে উঠল নতুন এক রক্তাক্ত ট্রেনযাত্রার আতঙ্কে।















