জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ইরান ও ভেনেজুয়েলা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের কঠোর সমালোচনা করেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ। তিনি বলেছেন, বিশ্বে কোনো একক পরাশক্তির আধিপত্য সবার জন্যই বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।
লাভরভের মতে, দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের দেশগুলো নিজেদের ‘সার্বভৌম উন্নয়নকেন্দ্র’ হিসেবে গড়ে তুলছে, যার ফলে আরও ন্যায়সংগত ও বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি হচ্ছে।
তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি, তাঁর পরিবারের সদস্য এবং দেশটির সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের কয়েকজন সদস্যকে হত্যার ঘটনাকে ‘জবরদস্তিমূলক একনায়কত্বের আরেকটি অগ্রহণযোগ্য প্রকাশ’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বড় ধরনের সামরিক অভিযানের সময় আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় থাকা ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতেও হামলা চালানো হয়েছে। তাঁর দাবি, এসব হামলার ফলে জাতিসংঘ-সমর্থিত পরমাণু পর্যবেক্ষণ সংস্থাটির তত্ত্বাবধানে থাকা পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধব্যবস্থা ‘অপূরণীয় ক্ষতির’ মুখে পড়েছে।
এ ছাড়া ইউরোপের বিভিন্ন সরকারের বিরুদ্ধেও অভিযোগ তোলেন লাভরভ। তাঁর দাবি, এসব সরকার ইউক্রেনকে অস্ত্র সরবরাহের পাশাপাশি বেসামরিক মানুষের ওপর হামলায় সহায়তা করছে এবং শান্তি আলোচনা বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে তিনি বলেন, ওয়াশিংটনের ট্রাম্প প্রশাসনসহ অনেক পক্ষই শান্তি আলোচনায় আগ্রহ দেখাচ্ছে।
নাৎসি জার্মানির পরাজয়ের পর নুরেমবার্গ বিচার শেষ হওয়ার ৮০ বছর পূর্তির বিষয়টিও ভাষণে তুলে ধরেন লাভরভ। তিনি বলেন, ওই বিচারের শিক্ষা সবাই গ্রহণ করেনি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সরকারগুলো ‘ইউক্রেনীয় নাৎসিবাদ’ সহ্য করছে এবং রুশ ভাষা ব্যবহারের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।























