গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায় আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের মূল হোতা এবং কুখ্যাত ‘বিশু গ্যাং’-এর প্রধান বিশু মণ্ডলকে (৪০) গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-৬। গত শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রাতে মুকসুদপুর উপজেলার বাঘাদিয়া এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাকে আটক করা হয় এবং রোববার সকালে এসআরবি-৬ এর পক্ষ থেকে প্রেরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। এসআরবি-৬ এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত বিশু মণ্ডল দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষকে অবৈধভাবে ইতালিতে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে এলাকায় নানা অপপ্রচার চালিয়ে আসছিল। এই চক্রের খপ্পরে পড়ে এক ভুক্তভোগী সর্বস্বান্ত হন, যার কাছ থেকে ইতালি নেওয়ার কথা বলে প্রথমে পাসপোর্টসহ নগদ ২ লাখ এবং পরবর্তীতে আরও ১২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় বিশু মণ্ডল ও তার সহযোগীরা।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে ওই ভুক্তভোগীকে ঢাকা থেকে বিমানে প্রথমে দুবাই এবং সেখান থেকে মিশর হয়ে লিবিয়ায় পাচার করা হয়। লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর বিশু মণ্ডলের স্থানীয় সহযোগীরা তাকে একটি আন্তর্জাতিক মাফিয়া চক্রের নির্মম হাতে তুলে দেয়। ওই মাফিয়া চক্র ভুক্তভোগীর ওপর অমানবিক শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে তার ভিডিও ধারণ করে এবং তা দেশে থাকা পরিবারের কাছে পাঠিয়ে ২৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।
পরিবারের লোকজন চরম উৎকণ্ঠায় বিভিন্ন উপায়ে সেই টাকা পরিশোধ করার পর তাকে সাময়িকভাবে মুক্তি দেওয়া হলেও পরবর্তীতে পুনরায় তাকে মাফিয়া চক্রের হাতে তুলে দেওয়া হয় এবং আরও ২৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করা হয়। এই পৈশাচিক ও অমানবিক ঘটনার শিকার হয়ে ভুক্তভোগী নিজে বাদী হয়ে পরবর্তীতে গোপালগঞ্জের মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন ট্রাইব্যুনালে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। ট্রাইব্যুনালের বিজ্ঞ বিচারকের নির্দেশনায় পরবর্তীতে মুকসুদপুর থানায় বিশু মণ্ডল ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইনে একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়। এসআরবি-৬ আরও জানিয়েছে যে, গ্রেপ্তারকৃত বিশু মণ্ডলের বিরুদ্ধে এর আগেও মানবপাচার এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একাধিক গুরুতর মামলা রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া ও পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আটক বিশু মণ্ডলকে মুকসুদপুর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।


























