Dhaka ০৯:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ: সৌদি-আমিরাত বিরোধ ও ইয়েমেন সংকট

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ০১:৪২:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১৩ বার দেখা হয়েছে

আরব উপদ্বীপের কৌশলগত মানচিত্র বর্তমানে তিনটি পরস্পর সম্পর্কিত ঘটনার প্রভাবে নতুনভাবে বিন্যস্ত হচ্ছে—সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ক্রমবর্ধমান বিরোধ, সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হুথিদের নতুন সামরিক অভিযান এবং প্রচলিত নিরাপত্তাব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা কমাতে রিয়াদের উদ্যোগ। এসব ঘটনা সৌদি আরবকে তার আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম কঠিন ভূরাজনৈতিক সন্ধিক্ষণে দাঁড় করিয়েছে। সৌদি–আমিরাত বিরোধ এখন আর প্রভাবশালী দুই উপসাগরীয় রাষ্ট্রের নীরব প্রতিযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই।

ইয়েমেন তাদের মৌলিকভাবে ভিন্ন লক্ষ্য প্রকাশ করে দিয়েছে। সৌদি আরব আনুষ্ঠানিকভাবে ইয়েমেনের ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কেন্দ্রীয় সরকারকে সমর্থন করে। বিপরীতে, আমিরাত দক্ষিণাঞ্চলীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের—বিশেষত সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের—সঙ্গে শক্তিশালী সম্পর্ক গড়ে তোলার পাশাপাশি বিভিন্ন বন্দর, দ্বীপ ও সামুদ্রিক পথের ওপর কৌশলগত প্রভাব বিস্তার করেছে।

২০২৫ সালের ডিসেম্বরে এই প্রতিযোগিতা প্রকাশ্য সংকটে রূপ নেয়। সৌদি আরব ইয়েমেন থেকে আমিরাতি বাহিনী প্রত্যাহারের দাবিকে সমর্থন করে এবং মুকাল্লায় আমিরাত-সমর্থিত শক্তির জন্য পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ করা একটি অস্ত্রের চালানে হামলা চালায়। এরপর আবুধাবি ইয়েমেন থেকে অবশিষ্ট সামরিক সদস্যদের প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়। ঘটনাটি ২০১৫ সালে যৌথভাবে ইয়েমেন যুদ্ধে অংশ নেওয়া দুদেশের সম্পর্কে নজিরবিহীন ভাঙন নির্দেশ করে। পরবর্তী সময়ে সৌদি আরব হুথি নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা এলাকায় রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা কর্তৃত্ব পুনর্গঠনে সহায়তা করে। রিয়াদের উদ্দেশ্য শুধু আমিরাতের প্রভাব হ্রাস করা নয়; বরং হুথিবিরোধী ইয়েমেনি ব্যবস্থার প্রধান বহিঃশক্তি হিসেবে নিজের অবস্থান পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।

কিন্তু প্রতিদ্বন্দ্বী একটি দেশের প্রভাব হ্রাস করা যতটা সহজ, একটি ঐক্যবদ্ধ ইয়েমেনি রাষ্ট্র গঠন ততটাই কঠিন। দেশটি এখনো হুথি, সরকারি বাহিনী, উপজাতীয় গোষ্ঠী, দক্ষিণাঞ্চলীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী ও বিভিন্ন স্থানীয় মিলিশিয়ার মধ্যে বিভক্ত। তাই হুথিবিরোধী শিবিরে সৌদি প্রাধান্য প্রতিষ্ঠিত হলেই ইয়েমেনে জাতীয় ঐক্য ফিরে আসবে না। একই সময়ে সৌদি আরব এখনো আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দেয়নি। এই চুক্তিগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরাইল ও কয়েকটি আরব দেশের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের কাঠামো।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ: সৌদি-আমিরাত বিরোধ ও ইয়েমেন সংকট

সর্বশেষ হালনাগাদ : ০১:৪২:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আরব উপদ্বীপের কৌশলগত মানচিত্র বর্তমানে তিনটি পরস্পর সম্পর্কিত ঘটনার প্রভাবে নতুনভাবে বিন্যস্ত হচ্ছে—সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ক্রমবর্ধমান বিরোধ, সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হুথিদের নতুন সামরিক অভিযান এবং প্রচলিত নিরাপত্তাব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা কমাতে রিয়াদের উদ্যোগ। এসব ঘটনা সৌদি আরবকে তার আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম কঠিন ভূরাজনৈতিক সন্ধিক্ষণে দাঁড় করিয়েছে। সৌদি–আমিরাত বিরোধ এখন আর প্রভাবশালী দুই উপসাগরীয় রাষ্ট্রের নীরব প্রতিযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই।

ইয়েমেন তাদের মৌলিকভাবে ভিন্ন লক্ষ্য প্রকাশ করে দিয়েছে। সৌদি আরব আনুষ্ঠানিকভাবে ইয়েমেনের ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কেন্দ্রীয় সরকারকে সমর্থন করে। বিপরীতে, আমিরাত দক্ষিণাঞ্চলীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের—বিশেষত সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের—সঙ্গে শক্তিশালী সম্পর্ক গড়ে তোলার পাশাপাশি বিভিন্ন বন্দর, দ্বীপ ও সামুদ্রিক পথের ওপর কৌশলগত প্রভাব বিস্তার করেছে।

২০২৫ সালের ডিসেম্বরে এই প্রতিযোগিতা প্রকাশ্য সংকটে রূপ নেয়। সৌদি আরব ইয়েমেন থেকে আমিরাতি বাহিনী প্রত্যাহারের দাবিকে সমর্থন করে এবং মুকাল্লায় আমিরাত-সমর্থিত শক্তির জন্য পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ করা একটি অস্ত্রের চালানে হামলা চালায়। এরপর আবুধাবি ইয়েমেন থেকে অবশিষ্ট সামরিক সদস্যদের প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়। ঘটনাটি ২০১৫ সালে যৌথভাবে ইয়েমেন যুদ্ধে অংশ নেওয়া দুদেশের সম্পর্কে নজিরবিহীন ভাঙন নির্দেশ করে। পরবর্তী সময়ে সৌদি আরব হুথি নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা এলাকায় রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা কর্তৃত্ব পুনর্গঠনে সহায়তা করে। রিয়াদের উদ্দেশ্য শুধু আমিরাতের প্রভাব হ্রাস করা নয়; বরং হুথিবিরোধী ইয়েমেনি ব্যবস্থার প্রধান বহিঃশক্তি হিসেবে নিজের অবস্থান পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।

কিন্তু প্রতিদ্বন্দ্বী একটি দেশের প্রভাব হ্রাস করা যতটা সহজ, একটি ঐক্যবদ্ধ ইয়েমেনি রাষ্ট্র গঠন ততটাই কঠিন। দেশটি এখনো হুথি, সরকারি বাহিনী, উপজাতীয় গোষ্ঠী, দক্ষিণাঞ্চলীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী ও বিভিন্ন স্থানীয় মিলিশিয়ার মধ্যে বিভক্ত। তাই হুথিবিরোধী শিবিরে সৌদি প্রাধান্য প্রতিষ্ঠিত হলেই ইয়েমেনে জাতীয় ঐক্য ফিরে আসবে না। একই সময়ে সৌদি আরব এখনো আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দেয়নি। এই চুক্তিগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরাইল ও কয়েকটি আরব দেশের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের কাঠামো।