পশ্চিম এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের স্থায়ী সমাধানে দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। সংযম প্রদর্শন, উত্তেজনা প্রশমন, বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা এবং জ্বালানি ও বাণিজ্যের নির্বিঘ্ন প্রবাহ নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছি। আন্তর্জাতিক জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজ ও নাবিকদের লক্ষ্য করে হামলা অগ্রহণযোগ্য।
শনিবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের বিতর্কে বক্তব্য দেওয়ার সময় উপসাগরীয় অঞ্চলের চলমান উত্তেজনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এসব কথা বলেন।
তিনি উল্লেখ করেন, সংঘাতের জন্য দায়ী না হয়েও বিশ্বের অনেক দেশকে যুদ্ধের প্রভাব বহন করতে হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংঘাতের কারণে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে বহু দূরে থাকা দেশগুলোকেও বড় ধরনের মূল্য দিতে হচ্ছে। সহিংস সংঘাত শুধু আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তাকে দুর্বল করছে না, বৈশ্বিক উন্নয়ন ও অগ্রগতির গতিও মন্থর করে দিচ্ছে।
ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন জয়শঙ্কর। যুদ্ধ পঞ্চম বছরে প্রবেশ করার প্রেক্ষাপটে তিনি বলেন, মনোযোগ ‘অন্তহীন যুদ্ধ’ চালিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে ‘যুদ্ধের অবসান’-এর দিকে নেওয়া প্রয়োজন। শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নেওয়া উদ্যোগগুলোর প্রতি ভারতের সমর্থনের কথাও জানান তিনি।
বর্তমান বিশ্বব্যবস্থা নিয়ে সতর্ক করে জয়শঙ্কর বলেন, বিশ্ব যেন ‘খাদের কিনারায়’ দাঁড়িয়ে আছে। আট দশক ধরে জাতিসংঘের অস্তিত্বের পরও স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা ও পূর্বানুমেয়তার বদলে ‘সবকিছুকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের’ প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, অর্থায়ন, বাজারে প্রবেশাধিকার, সরবরাহব্যবস্থা থেকে শুরু করে প্রযুক্তি—সব ক্ষেত্রেই অতিমাত্রায় প্রতিযোগিতার মানসিকতা তৈরি হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হচ্ছে এবং বিভিন্ন দেশ ঝুঁকি কমানো ও সরবরাহব্যবস্থায় বৈচিত্র্য আনার দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। খাদ্য, জ্বালানি, সার ও অর্থায়নসংক্রান্ত সংকটের কারণে বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলো বিশেষভাবে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
সন্ত্রাসবাদকে আন্তর্জাতিক শান্তির জন্য স্থায়ী হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে জয়শঙ্কর বলেন, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদ বৈশ্বিক ব্যবস্থার সরাসরি অবমাননা। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতিতে কোনো দুর্বলতা দেখানো উচিত নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।























