কক্সবাজারের উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনায় বিভিন্ন আইনি জটিলতা ও পরিবেশগত নিষেধাজ্ঞার প্রসঙ্গ তুলে ধরে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম মন্তব্য করেছেন যে, “পুরো কক্সবাজারকে নিয়ে সরকার বিপদের মধ্যে আছে।” শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।
প্রতিমন্ত্রী অভিযোগ করেন, কক্সবাজারকে একটি আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্রে রূপান্তরের লক্ষ্যে সরকার যখনই বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা হাতে নেয়, ঠিক তখনই কোনো কোনো সংস্থা উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়ে সরকারি কাজে বাধা সৃষ্টি করে। বিশেষ করে, সৈকতের লাবণী পয়েন্ট থেকে কলাতলী পর্যন্ত হোটেল রামাদার সামনে দিয়ে প্রায় ১২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি নতুন সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলে টেন্ডার সম্পন্ন হওয়ার পরও একটি পরিবেশবাদী সংস্থা (‘বেলা’) আদালতের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আসে। এর ফলে পরিবেশ ও প্রতিবেশ সংকটাপন্ন (ইসিএ) এলাকার দোহাই দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।
কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) বিভিন্ন বিধি-নিষেধের কঠোর সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সমুদ্রতীরের ৩০০ মিটারের মধ্যে কোনো স্থাপনা নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা এবং ৫০০ মিটার দূরে গিয়ে শুধু একতলা ভবন নির্মাণের নিয়মের কারণে পর্যটন মৌসুমে আগত লাখো পর্যটকের জন্য পর্যাপ্ত আবাসন নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না। পর্যটন নগরীর প্রকৃত বিকাশ ও পর্যটকদের সুবিধার্থে সংশ্লিষ্ট সকল মহলের মধ্যে সুসমন্বয় থাকা জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন। এছাড়া কক্সবাজারের ঐতিহ্য ও গুরুত্ব বজায় রাখতে পৌরসভাকেও সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।
এর আগে শনিবার সকালে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী একটি প্রকল্প পরিদর্শন করেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। সে সময় তিনি বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে জাতীয় গ্রিডে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। উক্ত পরিদর্শ ও মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুত্ফুর রহমান কাজল এবং চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য জসীম উদ্দীন আহমেদসহ স্থানীয় প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।






















