বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী ভারতের অন্তত ৯টি জেলায় একাধিক মাদকের কারখানা সক্রিয় রয়েছে, যেখান থেকে সীমান্ত পেরিয়ে নিয়মিত দেশে প্রবেশ করছে বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য। সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর কঠোর পাহারা ও নিয়মিত অভিযান সত্ত্বেও লালমনিরহাটসহ বিভিন্ন সীমান্তবর্তী রুট ব্যবহার করে ইয়াবা ও ফেনসিডিলের মতো ভয়ানক মাদক দেশের ভেতরে ঢুকে পড়ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানের পরও এসব অবৈধ চালান সড়ক, রেল ও জলপথ হয়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ছে।
মাদকদ্রব্য ও নেশা নিরোধ সংস্থার (মানস) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে মাদকাসক্তের সংখ্যা প্রায় দেড় কোটিতে পৌঁছেছে। এর মধ্যে প্রায় ১ কোটি স্থায়ী মাদকাসক্ত এবং বাকিরা সুযোগ বুঝে মাদক সেবন করে থাকে। উদ্বেগের বিষয় হলো, বর্তমানে নারী মাদকসেবীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। সবচেয়ে বড় ঝুঁকিতে রয়েছে দেশের তরুণ প্রজন্ম; মোট মাদকাসক্তের প্রায় ৮০ শতাংশের বয়স ১৮ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। পাশাপাশি, মাদক চোরাচালান ও পরিবহনের কাজে নারী ও শিশুদের ব্যবহার করার মতো প্রবণতাও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ভাবিয়ে তুলেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে হাত বাড়ালেই বিভিন্ন ধরনের মাদক পাওয়া যাচ্ছে, যার ফলে যুবসমাজ ধ্বংসের মুখে পড়ছে। সীমান্তবাসী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লালমনিরহাট জেলার প্রায় ২৪৮ কিলোমিটার দীর্ঘ ভারতীয় সীমান্তজুড়ে বিজিবির বিভিন্ন ব্যাটালিয়ন দায়িত্ব পালন করলেও চোরাকারবারিরা অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে অর্ধশতাধিক পয়েন্টকে মাদকের নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার করছে। পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ, আদিতমারী ও সদর উপজেলার বিভিন্ন সীমান্তবর্তী স্পট দিয়ে নিয়মিত ফেনসিডিল, গাঁজা, মদ ও ইয়াবা দেশের ভেতরে পাচার হয়ে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে।


























