ডেঙ্গুর প্রকোপ ও মশার উপদ্রব কমানোর পাশাপাশি সড়কে ছিনতাই ও ডাকাতির ঝুঁকি দূর করতে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ১ নম্বর ওয়ার্ডের গোমতী নদীর উভয় পাড়ের বেড়িবাঁধ সংলগ্ন সড়ক ও ফুটপাত পরিষ্কার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সচেতন বাসিন্দাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করেন কুসিকের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কাজী গোলাম কিবরিয়া।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোমতী নদীর দুই পাড়ের এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন বিবিরবাজার স্থলবন্দর থেকে শত শত পণ্যবাহী ও যাত্রীপরিবহন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের আমতলী বিশ্বরোড অভিমুখে যাতায়াত করে। দীর্ঘদিন ধরে সড়কের দুপাশে ঝোপঝাড় ও আগাছা জন্মে তা মশার নিরাপদ প্রজননক্ষেত্রে রূপ নিয়েছিল। একই সঙ্গে রাতের বেলায় অন্ধকারাচ্ছন্ন এই সড়কে ছিনতাই ও ডাকাতির কবলে পড়ার ভয়ে থাকতেন চালক ও পথচারীরা। সড়কটি পরিষ্কার করার ফলে একদিকে যেমন মশার বংশবৃদ্ধি রোধ হবে, অন্যদিকে অপরাধমূলক কার্যক্রমের ঝুঁকিও বহুলাংশে হ্রাস পাবে বলে আশা করছেন এলাকাবাসী।
অভিযান চলাকালে সড়কের দুপাশের বড় বড় ঝোপঝাড় কেটে ফেলার পাশাপাশি জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করা হয়। এছাড়া সাধারণ পথচারীদের চলাফেরা নিরাপদ ও সহজ করতে ফুটপাতগুলো পুরোপুরি উন্মুক্ত করা হয়।
এই উদ্যোগের বিষয়ে কাজী গোলাম কিবরিয়া বলেন, অতিরিক্ত ঝোপঝাড়ের কারণে সৃষ্ট অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ যেমন নাগরিকদের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছিল, তেমনি তা ডেঙ্গুবাহী মশার নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়েছিল। নিয়মিত এ ধরনের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করলে মশার উপদ্রব এবং ডেঙ্গুর ঝুঁকি কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
তিনি আরও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ১ নম্বর ওয়ার্ডকে যেকোনো ধরনের কিশোর গ্যাং, মাদকের বিস্তার এবং পরিবেশ দূষণের কবল থেকে রক্ষা করতে তারা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছেন। সমাজ সচেতনতা এবং গণপ্রতিরোধের মাধ্যমেই কেবল মাদক কারবারি ও অপরাধীদের কঠোর হাতে দমন করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গোমতী নদীর বাঁধ এলাকার এই সড়ক ও ফুটপাত যদি নিয়মিত তদারকি ও পরিষ্কার রাখা হয়, তবে সাধারণ মানুষের যাতায়াত যেমন নিরাপদ হবে, তেমনি নদীর পাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও অক্ষুণ্ন থাকবে। তারা এই ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার জোর দাবি জানান।






















