নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীতে ট্রলারডুবির দুই দিন পর একই পরিবারের তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পরে নিজ গ্রাম কুমিল্লায় তাদের পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি দাফন করা হয়। শনিবার সকালে উপজেলার বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের আল মোস্তফা ফ্যাক্টরির সামনে থেকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও নৌ পুলিশ তাদের মরদেহ উদ্ধার করে।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন ১৭ বছর বয়সী সামিনা, ২৪ বছর বয়সী সজীব এবং ৫ বছর বয়সী সামিন। এর আগে দুর্ঘটনার দিনই ৫৫ বছর বয়সী রায়েশা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। এই ঘটনায় হেলাল উদ্দিন নামের আরও একজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
শনিবার দুপুর ১২টার দিকে এই তিনজনের মরদেহ কুমিল্লার হোমনা উপজেলার শ্রীমদ্দি গ্রামে আনা হলে সেখানে শোকের ছায়া নেমে আসে। পরে স্থানীয় ঈদগাহ মাঠে জানাজা শেষে চরেরগাঁও কবরস্থানে তাদের পাশাপাশি দাফন করা হয়। দাফনকালে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুসরাত জাবিনসহ এলাকার গণ্যমান্যে ব্যক্তিবর্গ ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে কুমিল্লার হোমনা থেকে আত্মীয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন ১৪ জন যাত্রী। পথে সোনারগাঁয়ের বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের সোনামই এলাকায় আমান সিমেন্ট কারখানা সংলগ্ন মেঘনা নদীতে প্রবল স্রোতের কবলে পড়ে তাদের ট্রলারটি উল্টে যায় এবং মুহূর্তের মধ্যে তলিয়ে যায়।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে সোনারগাঁ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ডুবুরি দল এবং নৌ পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। অভিযানের একপর্যায়ে নদীর তলদেশ থেকে ডুবে যাওয়া ট্রলারটি উদ্ধার করা হয় এবং নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধারকাজ অব্যাহত রাখা হয়।
হোমনা থানার ওসি টমাস বড়ুয়া জানান, উদ্ধার হওয়া তিনজনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করার পর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখনো একজন নিখোঁজ রয়েছেন এবং তার সন্ধানে উদ্ধার তৎপরতা চলছে।






















