সহকারী প্রাথমিক শিক্ষক পদে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় মেধার ভিত্তিতে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পরও শত শত প্রার্থীকে নিয়োগ থেকে বাদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এনএসআই, এসবি ও ডিএসবির ভেরিফিকেশনের নামে বিভিন্ন জেলা থেকে বাদ পড়া এসব প্রার্থীর নিয়োগ প্রক্রিয়া পুনঃতদন্তের দাবি জানিয়েছে ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংক (ইউটিএল)।
শনিবার এক যৌথ বিবৃতিতে ইউটিএল এর সভাপতি অধ্যাপক ড. মোঃ আতিয়ার রহমান ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. যুবাঈর মুহাম্মদ এহসান বলেন, বাদ পড়া প্রার্থীরা প্রত্যেকেই মেধার ভিত্তিতে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। ভেরিফিকেশনের নামে তাদের বাদ দেওয়া হয়ে থাকলে এর সুনির্দিষ্ট কারণ ও আইনগত ভিত্তি জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে। কারণ, ভেরিফিকেশন কখনোই রাজনৈতিক-মতাদর্শিক বৈষম্য, হয়রানি বা বাছাইয়ের হাতিয়ার হতে পারে না।
ইউটিএল নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে কারও রাজনৈতিক মতামত, ব্যক্তিগত বিশ্বাস বা সরকারের সঙ্গে মতপার্থক্যের কারণে চাকরিবঞ্চিত করার অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। নির্দিষ্ট অপরাধ বা আইনগত অযোগ্যতার প্রমাণ ছাড়া নিছক অনুমান, রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা মতপার্থক্যের ভিত্তিতে কাউকে সরকারি চাকরি থেকে বঞ্চিত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন, বিগত ১৭ বছর ধরে গোপন প্রতিবেদনের নামে রাজনৈতিক মতাদর্শ আলাদা করে নাগরিকের চাকরি ও ভবিষ্যৎ কেড়ে নেওয়া হয়েছে, যা আর চলতে পারে না। কোনো সরকারি সংস্থার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত কোনো প্রার্থীর নিয়োগ বাতিল করতে হলে সেই প্রতিবেদনের আইনগত ভিত্তি ও যৌক্তিকতা বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীকে যথাযথ সুযোগ দিতে হবে।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আরও উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি নিয়োগে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর উদ্যোগ ঘিরেও নানামাত্রিক প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে। জুলাই পরবর্তী সময়ে একটি সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও জবাবদিহিমূলক নিয়োগব্যবস্থা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের এবং সরকারি চাকরি যে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি আনুগত্যের পুরস্কার নয়, সেটি নিশ্চিত করবার দায়িত্বও সরকারের।
ইউটিএল অবিলম্বে বাদ পড়া সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের ভেরিফিকেশন প্রতিবেদন পুনঃপর্যালোচনা, অভিযোগের যথাযথ প্রমাণ উপস্থাপন এবং প্রয়োজনে পুনঃতদন্তের মাধ্যমে নিয়োগ সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছে।






















