জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও রংপুর-২ (বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, পরিবারে শান্তি প্রতিষ্ঠায় বউ-শাশুড়ির সম্পর্ক মা ও মেয়ের মতো হওয়া জরুরি। তিনি বলেন, আমাদের সমাজে অনেকেই শাশুড়ি হিসেবে ছেলের স্ত্রীকে মেনে নিতে কষ্টবোধ করেন, আবার অনেক সময় ছেলের বউরাও শাশুড়িকে মায়ের মর্যাদা দিতে চান না। পরিবারে এমন অবস্থা থাকলে সেখানে কখনো শান্তি থাকে না। পারস্পরিক সম্পর্ক ও ভালোবাসা অটুট থাকলেই পরিবারের সবাই মিলেমিশে শান্তিতে বসবাস করতে পারে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার লোহানিপাড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ‘বউ-শাশুড়ির অঙ্গীকার, গর্ভকালীন সেবার অধিকার’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে ‘জননী’ আয়োজিত এক ‘বউ-শাশুড়ি মেলা’য় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উপস্থিত শাশুড়ি ও পুত্রবধূদের উদ্দেশে এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেন, এখানে যারা শাশুড়ি হিসেবে এসেছেন, তারা ছেলের বউদের আপন মেয়ের মতো স্নেহ করবেন। আর যারা পুত্রবধূ হয়ে শ্বশুরবাড়িতে এসেছেন, তারা শাশুড়িকে মায়ের আসনে রাখবেন। তবেই পরিবারে শান্তি বজায় থাকবে।
এ টি এম আজহারুল ইসলাম আরও বলেন, এ সরকার আমলে স্বাস্থ্যসেবার মান অনেক ভালো পর্যায়ে চলে এসেছে। সরকার এবং বিরোধী দলের সহযোগিতায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো রোগীর সেবার মান বাড়িয়ে আরও উন্নতির দিকে এগোচ্ছে। যে সকল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৫০ শয্যার, সেগুলো ১০০ শয্যায় উন্নীত করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং যেগুলো ১০০ শয্যার, সেগুলো ১৫০ শয্যায় করার জন্য সরকারের কাছে আমরা আহ্বান জানিয়েছি।
গর্ভবতী মায়েদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আজকে যারা গর্ভবতী মায়েরা এখানে এসেছেন, তাদেরকে অবশ্যই স্বাস্থ্যের প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। কারণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অংশ। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কখনো সুস্থ-সবল থাকা সম্ভব না।
সংসদ সদস্য এ টি এম আজহারুল বলেন, আপনারা সবাই জানেন, ‘আমাকে একজন শিক্ষিত মা দাও আমি একটি সুন্দর ও উন্নত জাতি উপহার দিবো।’ আমাদের এই কথাটি অনুধাবন করে অবশ্যই মায়েদেরকে সন্তানদের প্রতি আদর, স্নেহ, ভালোবাসার পাশাপাশি শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে হবে। নিয়মিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে হবে। তবে শিক্ষার বিষয়টি শুধু ছেলেদের পক্ষে গুরুত্ব দিলে হবে না, সমানভাবে মেয়েদেরকেও একই সুযোগ দিতে হবে। একটি শিক্ষিত মেয়ে শ্বশুরবাড়িতে গেলে সেই বাড়ির পরিবেশে সহজেই মিশে যেতে পারবে এবং সমাজের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অবদান রাখতে পারবে।






















