জামায়াত দল হিসেবে সম্পূর্ণ অকৃতজ্ঞ এবং তারা বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দেওয়া মন্ত্রিত্বের ঐতিহাসিক অবদানের কথা ভুলে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুরে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কঠোর মন্তব্য করেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০০১ সালে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া জামায়াতের দুই নেতাকে মন্ত্রিসভায় স্থান দিয়েছিলেন। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল তাদের নামের ওপর থেকে ‘রাজাকারের তকমা’ দূর করার একটি রাজনৈতিক চেষ্টা করা। কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জামায়াত সেই কৃতজ্ঞতাবোধ ভুলে গিয়ে উল্টো আচরণ করছে। বর্তমান সরকার একটি জনগণের সরকার এবং দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে নির্বাচিত একটি স্থিতিশীল প্রশাসন উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার গঠনের ছয় মাস পার না হতেই তারা লংমার্চ করে সরকার পতনের হুমকি দিচ্ছে।
আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম জানান, আগামী বছরের জানুয়ারিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং সে জন্য দলের নেতাকর্মীদের এখন থেকেই পূর্ণ প্রস্তুতি নিতে হবে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে মাঠে কাজ করার নির্দেশ দিয়ে তিনি স্পষ্ট করেন যে, আগামী স্থানীয় নির্বাচনে বিএনপি একক প্রার্থীকে সমর্থন দেবে। দলের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে যারা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে দাঁড়াবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এনসিপি এবং জামায়াতের সঙ্গে আওয়ামী লীগের পুরোনো সম্পর্ক রয়েছে বলে দাবি করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে তারা দেশে যে আন্দোলন বা কর্মসূচি পালন করছে, তা প্রকারান্তরে আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিকভাবে সহায়তা করারই শামিল। বিএনপি কারও কোনো ধরনের হুমকিকে পরোয়া করে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত জাতীয় নির্বাচনে যারা দলের সঙ্গে বেঈমানি করেছে, বিএনপিতে তাদের আর কখনোই কোনো ঠাঁই হবে না। তবে দলের দুঃসময়ে যারা নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছেন, তারা বৈধ উপায়ে প্রয়োজনীয় সবকিছুই পাবেন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে গত জুলাই মাসে ভয়াবহ বন্যায় চট্টগ্রামের বাঁশখালী ও সাতকানিয়া উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করা হয়। জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে বাঁশখালীর ৫১০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ঘর নির্মাণের জন্য প্রথম ধাপে ৩০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তার চেক প্রদান করা হয়।






















