Dhaka ০৭:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

সামরিক শক্তি জোরদারে বড় রদবদল ও অভ্যন্তরীণ কৌশল বদলাচ্ছে চীন

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ১০:৩৬:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৩৩ বার দেখা হয়েছে

চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) শীর্ষ পর্যায়ে ব্যাপক পরিবর্তন ও দুর্নীতিবিরোধী অভিযান দেশটির সামরিক প্রস্তুতিতে সাময়িক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা। তবে একই সঙ্গে এসব কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সামরিক বাহিনীর ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণ আরও দৃঢ় করছেন বলেও তারা অভিমত প্রকাশ করেছেন।

তাইওয়ান প্রণালি এবং পূর্ব ও দক্ষিণ চীন সাগরে বেইজিংয়ের সামরিক তৎপরতা ও আধুনিকায়নের গতি যখন বৃদ্ধি পাচ্ছে, ঠিক তখনই পিএলএর শীর্ষ নেতৃত্বে একের পর এক রদবদল নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সম্প্রতি ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির পলিটব্যুরো থেকে দুই শীর্ষ সামরিক নেতা জিয়াং ইউক্সিয়া ও লিউ ঝেনলিকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এর মধ্যে জিয়াং দীর্ঘদিন ধরে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ঘনিষ্ঠ সামরিক সহযোগী ও কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের (সিএমসি) ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এই পদক্ষেপে প্রমাণিত হয় যে, সামরিক বাহিনীতে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান অত্যন্ত কঠোরভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে। বর্তমানে সাত সদস্যের সিএমসিতে পাঁচটি পদই শূন্য রয়েছে।

সিঙ্গাপুরভিত্তিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক জেমস চারের মতে, সামরিক কাঠামোর ওপর শি জিনপিংয়ের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকা নিশ্চিত। কারণ পিএলএ যার নিয়ন্ত্রণে থাকে, কমিউনিস্ট পার্টির ওপরও তার চূড়ান্ত প্রভাব বজায় থাকে। তবে বেইজিংভিত্তিক গ্লোবাল গভর্ন্যান্স ইনস্টিটিউশনের প্রেসিডেন্ট তিয়েন শিচেনের দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী, দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের অপসারিত করার ফলে সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধসক্ষমতা দুর্বল হওয়ার পরিবর্তে বরং আরও সুসংহত হতে পারে।

শীর্ষ পর্যায়ে এই বড় ধরনের রদবদলের পরও চীন নিয়মিত প্রতিরক্ষা কার্যক্রম, অস্ত্রের পরীক্ষা ও সামরিক মহড়া চালিয়ে যাচ্ছে। তবে তাইওয়ানকে ঘিরে কোনো বড় ধরনের সামরিক অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে বর্তমান কমান্ড কাঠামোর কার্যকারিতা নিয়ে কিছু বিশ্লেষক সংশয় প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে, জিয়াং ইউক্সিয়া ১৯৭৯ সালের ভিয়েতনাম যুদ্ধে সরাসরি অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন পিএলএর অন্যতম জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ছিলেন। লন্ডনভিত্তিক টনি ব্লেয়ার ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ নীতি উপদেষ্টা রুবি ওসমান মনে করেন, শীর্ষ নেতৃত্বে এমন পরিবর্তনের পর তাইওয়ানের মতো জটিল সামরিক অভিযান পরিচালনা করা কতটা সহজ হবে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব সামরিক কাঠামোর জন্যই কল্যাণকর হতে পারে।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

সামরিক শক্তি জোরদারে বড় রদবদল ও অভ্যন্তরীণ কৌশল বদলাচ্ছে চীন

সর্বশেষ হালনাগাদ : ১০:৩৬:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) শীর্ষ পর্যায়ে ব্যাপক পরিবর্তন ও দুর্নীতিবিরোধী অভিযান দেশটির সামরিক প্রস্তুতিতে সাময়িক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা। তবে একই সঙ্গে এসব কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সামরিক বাহিনীর ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণ আরও দৃঢ় করছেন বলেও তারা অভিমত প্রকাশ করেছেন।

তাইওয়ান প্রণালি এবং পূর্ব ও দক্ষিণ চীন সাগরে বেইজিংয়ের সামরিক তৎপরতা ও আধুনিকায়নের গতি যখন বৃদ্ধি পাচ্ছে, ঠিক তখনই পিএলএর শীর্ষ নেতৃত্বে একের পর এক রদবদল নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সম্প্রতি ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির পলিটব্যুরো থেকে দুই শীর্ষ সামরিক নেতা জিয়াং ইউক্সিয়া ও লিউ ঝেনলিকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এর মধ্যে জিয়াং দীর্ঘদিন ধরে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ঘনিষ্ঠ সামরিক সহযোগী ও কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের (সিএমসি) ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এই পদক্ষেপে প্রমাণিত হয় যে, সামরিক বাহিনীতে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান অত্যন্ত কঠোরভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে। বর্তমানে সাত সদস্যের সিএমসিতে পাঁচটি পদই শূন্য রয়েছে।

সিঙ্গাপুরভিত্তিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক জেমস চারের মতে, সামরিক কাঠামোর ওপর শি জিনপিংয়ের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকা নিশ্চিত। কারণ পিএলএ যার নিয়ন্ত্রণে থাকে, কমিউনিস্ট পার্টির ওপরও তার চূড়ান্ত প্রভাব বজায় থাকে। তবে বেইজিংভিত্তিক গ্লোবাল গভর্ন্যান্স ইনস্টিটিউশনের প্রেসিডেন্ট তিয়েন শিচেনের দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী, দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের অপসারিত করার ফলে সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধসক্ষমতা দুর্বল হওয়ার পরিবর্তে বরং আরও সুসংহত হতে পারে।

শীর্ষ পর্যায়ে এই বড় ধরনের রদবদলের পরও চীন নিয়মিত প্রতিরক্ষা কার্যক্রম, অস্ত্রের পরীক্ষা ও সামরিক মহড়া চালিয়ে যাচ্ছে। তবে তাইওয়ানকে ঘিরে কোনো বড় ধরনের সামরিক অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে বর্তমান কমান্ড কাঠামোর কার্যকারিতা নিয়ে কিছু বিশ্লেষক সংশয় প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে, জিয়াং ইউক্সিয়া ১৯৭৯ সালের ভিয়েতনাম যুদ্ধে সরাসরি অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন পিএলএর অন্যতম জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ছিলেন। লন্ডনভিত্তিক টনি ব্লেয়ার ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ নীতি উপদেষ্টা রুবি ওসমান মনে করেন, শীর্ষ নেতৃত্বে এমন পরিবর্তনের পর তাইওয়ানের মতো জটিল সামরিক অভিযান পরিচালনা করা কতটা সহজ হবে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব সামরিক কাঠামোর জন্যই কল্যাণকর হতে পারে।