মানিকগঞ্জের হরিরামপুর থানার ওসি মুহাম্মদ আফজাল হোসেনের বিদায় উপলক্ষে এক ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়রা তাকে বিদায় জানাতে কেউ নিয়ে এসেছেন বাড়ির গাছের লাউ, কেউ মৌসুমি ফল, আবার কেউ দেশি হাঁস-মুরগি। এমন ভালোবাসাপূর্ণ বিদায় পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি।
বুধবার বেলা ১২টার দিকে হরিরামপুর থানা প্রাঙ্গণে এই ব্যতিক্রমী বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ সময় আশপাশের কয়েকটি গ্রামের অসংখ্য মানুষ জড়ো হন এবং অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
হরিরামপুর থানা সূত্রে জানা যায়, বদলির আদেশ পাওয়ার পর হরিরামপুর থানা প্রাঙ্গণে বিদায়ী ওসি আফজাল হোসেনকে বিদায় এবং নবাগত ওসি জে ও এম তৌফিক আজমকে বরণ করে নিতে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে রাজনৈতিক নেতাকর্মী, ব্যবসায়ী, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, শিক্ষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওসি আফজাল হোসেন গত ২০২৫ সালের ৮ ডিসেম্বর হরিরামপুর থানায় যোগদানের পর নয় মাসের বেশি সময় দায়িত্ব পালন করেন। এই সময়ে তিনি মাদক, ইভটিজিং এবং মামলা জটিলতা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন, যা স্থানীয়দের কাছে প্রশংসিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে স্থানীয়রা বিদায়ী ওসিকে ফুলের মালা ও ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। পরে অনেকে তার সঙ্গে ছবি তোলেন এবং কুশল বিনিময় করেন। দায়িত্ব পালনকালের বিভিন্ন স্মৃতিচারণ করে অনেকেই তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সব মিলিয়ে অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল এক আবেগঘন পরিবেশ।
স্থানীয় বাসিন্দা হোসেন আলী বলেন, ‘আমি কয়েক মাস আগে একটা সমস্যায় পড়েছিলাম। স্যার আমার সমস্যাটার সমাধান খুব আন্তরিকতার সঙ্গে করে দিয়েছেন। উনি অনেক ভালো মানুষ।’
স্থানীয় আবেদ হাসান বলেন, ‘ওসি আফজাল হোসেন দায়িত্ব পালনকালে সকালে হাঁটতে বের হওয়ার সময় বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখতেন। এলাকার পরিস্থিতি সম্পর্কে সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতেন। হরিরামপুরের অন্যতম ভালো একজন ওসি ছিলেন তিনি।’
হরিরামপুর পদ্মা নদীর পাড়ের বাসিন্দা সালেহা বেগম দুইটি দেশি মুরগি নিয়ে আসেন অনুষ্ঠানস্থলে। তিনি বলেন, ‘আমগো চরে ডাকাতি চুরি নিয়ন্ত্রণে তার কাজ আমগো মনে থাকব। তাই ট্রলারে নদী পার অইয়া আইছি।’
স্থানীয়দের এমন ভালোবাসায় আবেগাপ্লুত হয়ে ওসি আফজাল হোসেন বলেন, ‘হরিরামপুরবাসীর এমন আয়োজনে আমি আবেগী হয়ে গেছি। চাকরি করলে বদলি হবেই। হরিরামপুরে দায়িত্ব পালনের সময় স্থানীয় মানুষের কাছ থেকে অনেক সহযোগিতা পেয়েছি। বিদায়বেলায় হরিরামপুরবাসী যেভাবে সম্মান ও ভালোবাসা জানিয়েছেন, আমি কখনো ভুলবো না।’






















