Dhaka ০৪:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

উপসাগরীয় সংকট সমাধানে কূটনৈতিক পথ খোলা আছে: কাতারের আমির

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ১২:৪১:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৩৭ বার দেখা হয়েছে

কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্য বর্তমানে এক অত্যন্ত বিপজ্জনক সময় পার করছে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের সংকট পুরো বিশ্বকেই প্রভাবিত করছে। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, বর্তমান পরিস্থিতির মধ্যেও কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ রয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল পুনরায় চালু করে আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধ এড়ানো সম্ভব এবং ইরানসহ পুরো অঞ্চলের জন্য দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে এই সুযোগ কাজে লাগানো উচিত। মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি এই মন্তব্য করেন।

ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা, প্রতিবেশী দেশগুলোতে হামলা এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে কাতারের আমির বলেন, বছরের পর বছর ধরে সংকট ব্যবস্থাপনা পিছিয়ে দেওয়া এবং অস্থায়ী ও অবাস্তব নীতির কারণেই বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আরও বলেন যে, বিরোধ নিষ্পত্তির প্রধান পথ হওয়া উচিত সংলাপ ও আলোচনা এবং আন্তর্জাতিক আইন, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা।

শেখ তামিম মধ্যপ্রাচ্যে একটি আঞ্চলিক ‘সম্মিলিত নিরাপত্তা’ ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তার মতে, এই ধরনের ব্যবস্থায় রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান থাকতে হবে। বিরোধের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তি এবং রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতিও এর অবিচ্ছেদ্য অংশ হওয়া উচিত।

তিনি সতর্ক করে বলেন, এমন নিরাপত্তাব্যবস্থা না থাকলে একটি পক্ষ তার প্রতিবেশী দেশগুলোকে এমন এক যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলতে পারে, যা তাদের নিজেদের যুদ্ধ নয়। এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও স্থাপনায় হামলা হতে পারে এবং সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব উল্লেখ করে কাতারের আমির বলেন, বিশ্বের প্রায় এক-চতুর্থাংশ জ্বালানি বাণিজ্য যে আন্তর্জাতিক জলপথ দিয়ে পরিচালিত হয়, সেটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বৈশ্বিক অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ পথগুলো যখন চাপ ও দর-কষাকষির হাতিয়ারে পরিণত হয়, তখন এর মূল্য দিতে হয় বিশ্বের সাধারণ মানুষকে। এর প্রভাব খাদ্য ও ওষুধের দাম এবং মানুষের জীবন-জীবিকার ওপরও পড়ে।

গাজা পরিস্থিতিকেও তার বক্তব্যে বিশেষ গুরুত্ব দেন কাতারের আমির। তিনি বলেন, ফিলিস্তিন প্রশ্নকে উপেক্ষা করে কোনো ন্যায়সঙ্গত আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করা সম্ভব নয়। গাজায় যা ঘটেছে, তাকে তিনি ‘সব অর্থেই গণহত্যা’ হিসেবে বর্ণনা করেন।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

উপসাগরীয় সংকট সমাধানে কূটনৈতিক পথ খোলা আছে: কাতারের আমির

সর্বশেষ হালনাগাদ : ১২:৪১:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্য বর্তমানে এক অত্যন্ত বিপজ্জনক সময় পার করছে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের সংকট পুরো বিশ্বকেই প্রভাবিত করছে। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, বর্তমান পরিস্থিতির মধ্যেও কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ রয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল পুনরায় চালু করে আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধ এড়ানো সম্ভব এবং ইরানসহ পুরো অঞ্চলের জন্য দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে এই সুযোগ কাজে লাগানো উচিত। মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি এই মন্তব্য করেন।

ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা, প্রতিবেশী দেশগুলোতে হামলা এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে কাতারের আমির বলেন, বছরের পর বছর ধরে সংকট ব্যবস্থাপনা পিছিয়ে দেওয়া এবং অস্থায়ী ও অবাস্তব নীতির কারণেই বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আরও বলেন যে, বিরোধ নিষ্পত্তির প্রধান পথ হওয়া উচিত সংলাপ ও আলোচনা এবং আন্তর্জাতিক আইন, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা।

শেখ তামিম মধ্যপ্রাচ্যে একটি আঞ্চলিক ‘সম্মিলিত নিরাপত্তা’ ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তার মতে, এই ধরনের ব্যবস্থায় রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান থাকতে হবে। বিরোধের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তি এবং রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতিও এর অবিচ্ছেদ্য অংশ হওয়া উচিত।

তিনি সতর্ক করে বলেন, এমন নিরাপত্তাব্যবস্থা না থাকলে একটি পক্ষ তার প্রতিবেশী দেশগুলোকে এমন এক যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলতে পারে, যা তাদের নিজেদের যুদ্ধ নয়। এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও স্থাপনায় হামলা হতে পারে এবং সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব উল্লেখ করে কাতারের আমির বলেন, বিশ্বের প্রায় এক-চতুর্থাংশ জ্বালানি বাণিজ্য যে আন্তর্জাতিক জলপথ দিয়ে পরিচালিত হয়, সেটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বৈশ্বিক অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ পথগুলো যখন চাপ ও দর-কষাকষির হাতিয়ারে পরিণত হয়, তখন এর মূল্য দিতে হয় বিশ্বের সাধারণ মানুষকে। এর প্রভাব খাদ্য ও ওষুধের দাম এবং মানুষের জীবন-জীবিকার ওপরও পড়ে।

গাজা পরিস্থিতিকেও তার বক্তব্যে বিশেষ গুরুত্ব দেন কাতারের আমির। তিনি বলেন, ফিলিস্তিন প্রশ্নকে উপেক্ষা করে কোনো ন্যায়সঙ্গত আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করা সম্ভব নয়। গাজায় যা ঘটেছে, তাকে তিনি ‘সব অর্থেই গণহত্যা’ হিসেবে বর্ণনা করেন।