সাভারের আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় একটি পোশাক কারখানায় সংঘটিত ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে হতাহত শ্রমিক ও তাদের grieving পরিবারের খোঁজখবর নিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং শহীদ সরওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মোইন খান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে প্রীতি গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ‘প্রীতি কম্পোজিট টেক্সটাইল লিমিটেড’ চত্বরে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণজনিত এই আকস্মিক ও মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এই দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের পাশে দাঁড়াতে এবং তাদের চিকিৎসাসেবার সার্বিক পরিস্থিতি সরেজমিন পর্যবেক্ষণের অংশ হিসেবে দুই মন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে ছুটে যান এবং চিকিৎসাধীন ও শোকাহত পরিবারগুলোকে সান্ত্বনা দেন।
হাসপাতাল পরিদর্শনকালে সরকারের পক্ষ থেকে অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবার এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গুরুতর আহত প্রত্যেকটি পরিবারের হাতে জরুরি আর্থিক সহায়তা হিসেবে নগদ ৫০ হাজার টাকা করে তুলে দেওয়া হয়। এ সময় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে স্পষ্ট করে জানান যে, আশুলিয়ার এই অপ্রত্যাশিত অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি মানুষের পাশে সরকার সর্বশক্তি দিয়ে রয়েছে। আহত শ্রমিকদের উন্নত ও সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সকল ধরনের প্রশাসনিক ও চিকিৎসাগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সহায়তাটি সম্পূর্ণভাবে একটি প্রাথমিক জরুরি সহায়তা মাত্র এবং পরবর্তীতে পরিস্থিতি বিবেচনা করে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও পরিবারগুলোকে আরও অধিক পরিমাণে আর্থিক সাহায্য প্রদান করা হবে। পাশাপাশি, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার সঠিক ও নিরপেক্ষ কারণ অনুসন্ধানের জন্য ইতিমধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তদন্তে যারাই দোষী সাব্যস্ত হোক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে বিন্দুমাত্র ছাড় না দিয়ে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ড. আবদুল মোইন খান তাঁর বক্তব্যে জানান যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা ও সজাগ দৃষ্টির ফলেই তারা তাৎক্ষণিকভাবে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে ছুটে এসে অগ্নিকাণ্ডে হতাহতদের খোঁজখবর নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিকভাবে এই দুর্ঘটনার বিষয়ে ব্যক্তিগতভাবে খোঁজখবর রাখছেন এবং বিপদে পড়া মানুষের পাশে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। স্থানীয় সরকার মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকার এই অত্যন্ত কঠিন ও সংকটময় সময়ে নিহত ও আহত শ্রমিকদের পরিবারের পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। আহতদের দ্রুত সুস্থ করে তুলতে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
উচ্চপর্যায়ের এই হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় দুই মন্ত্রীর সঙ্গে সরকারের উচ্চপদস্থ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার, যুগ্মসচিব মোহাম্মদ কুদ্দুছ আলী সরকার, উপসচিব মোহাম্মদ শামছুল ইসলাম এবং সংশ্লিষ্ট হাসপাতালসমূহের সম্মানিত পরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন চিকিৎসকরা উপস্থিত থেকে সার্বিক চিকিৎসাসেবার তদারকি করেন। সরকারের নীতিনির্ধারক ও মন্ত্রীদের এমন তাৎক্ষণিক উপস্থিতি এবং পাশে দাঁড়ানোর এই আশ্বস্তকরণ আহত শ্রমিক ও তাদের পরিবারের মাঝে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।






















