Dhaka ০৪:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

হাম-ডেঙ্গুর সঙ্গে মৌসুমি ‘ফ্লু’, হাসপাতালে হিমশিম

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৯:২৭:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১৮ বার দেখা হয়েছে

দেশজুড়ে হঠাৎ করেই মশাবাহিত ডেঙ্গু এবং সংক্রামক হাম রোগের ভয়াবহ প্রকোপের সঙ্গে মৌসুমি ‘ফ্লু’-এর মারাত্মক আক্রমণে দেশের সামগ্রিক চিকিৎসাব্যবস্থা এবং বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোর সেবাসামর্থ্য চরম সংকটের মুখে পড়েছে। কুষ্টিয়া থেকে উন্নত চিকিৎসার আশায় দেড় বছরের শিশু রোজা ইসলামকে নিয়ে ঢাকার শিশু হাসপাতালে ছুটে আসা বাবা সিরাজুল ইসলামের আকুতি বর্তমান পরিস্থিতির এক নিদারুণ চিত্র ফুটিয়ে তোলে। নিউমোনিয়াসহ একাধিক জটিল ইনফেকশনে আক্রান্ত ওই শিশুর জন্য গত চার দিন ধরে বিভিন্ন হাসপাতালে ঘুরেও কোনো নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র বা আইসিইউ শয্যা না পাওয়ার ঘটনাটি রাজধানীতে শয্যাসংকটের তীব্রতা স্পষ্ট করে। শুধু শিশু হাসপাতাল নয়, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ রাজধানীর প্রধান সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোর বহির্বিভাগ এবং ওয়ার্ডগুলোতে রোগীর উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের পাঁচ তলার বারান্দাজুড়ে শতাধিক রোগী বেড পেতে চিকিৎসাসেবা নিতে বাধ্য হচ্ছেন, যেখানে হাম ও ডেঙ্গু ওয়ার্ডের একটি শয্যাও ফাঁকা নেই। শিশু ওয়ার্ডে রোগীর প্রচণ্ড ভিড় এবং অনেক ক্ষেত্রে অক্সিজেন সিলিন্ডারের সংকটের কারণে জটিল অবস্থার শিশুদের অন্যত্র রেফার করতে বাধ্য হচ্ছেন চিকিৎসকরা।

চলতি বছর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য ও হাসপাতালের নথি বিশ্লেষণে দেখা যায়, দেশজুড়ে হাম ও ডেঙ্গুর পরিস্থিতি অত্যন্ত আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত প্রায় ছয় মাস ধরে চলা হামের প্রাদুর্ভাবে শিশুদের ওপর এর মারাত্মক প্রভাব পড়েছে এবং মার্চ মাস থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত দেশজুড়ে হামে আক্রান্ত হয়ে এক হাজার ৬৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে কেবল আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে রোগী ভর্তির সংখ্যা পাঁচ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। অন্যদিকে, অগাস্ট মাস থেকে মারাত্মক রূপ নেওয়া ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে চলতি বছর এ পর্যন্ত ১৯০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে, যার মধ্যে শুধুমাত্র সেপ্টেম্বর মাসেই মারা গেছেন ৯৩ জন। ডেঙ্গু রোগী ভর্তির পরিসংখ্যানও উদ্বেগজনক; যেখানে জানুয়ারি মাসে ১ হাজার ৮১ জন ভর্তি হয়েছিল, সেখানে সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম তিন সপ্তাহে তা লাফিয়ে ২৭ হাজার ৭৮১ জনে দাঁড়িয়েছে। চলতি সেপ্টেম্বর মাসের এই ২১ দিনে হাম ও ডেঙ্গু মিলিয়ে মোট ১৮৩ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার অর্থ হলো প্রতিদিন গড়ে আটজনেরও বেশি মানুষ এই দুই রোগের কাছে হার মানছেন। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন যে, হাম ও ডেঙ্গুর প্রাথমিক লক্ষণ একই হওয়ায় রোগীরা সময়মতো রোগ নির্ণয় করতে পারছেন না, ফলে সামান্য দেরিতে হাসপাতালে আসার কারণে রোগীর শারীরিক অবস্থা দ্রুত জটিল আকার ধারণ করছে।

চিকিৎসকদের মতে, সাধারণ সিজনাল ফ্লু এবার ব্যাপক আকারে দেখা দেওয়ায় মানুষ আরও বেশি আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. নন্দিতা পালসহ বিশিষ্ট জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সামান্য জ্বর হলেই অবহেলা না করে তিন দিনের মধ্যে অবশ্যই ডেঙ্গু পরীক্ষা করাতে হবে এবং শিশুদের ক্ষেত্রে হামের লক্ষণগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজ উদ্যোগে অতিরিক্ত স্যালাইন গ্রহণ বা ভুল পদ্ধতিতে তরল পানের প্রবণতা রোগীর অবস্থাকে আরও সংকটাপন্ন করে তুলছে। চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গবেষণায় দেখা গেছে, হামে সংক্রমিত শিশুদের একটি বড় অংশ হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র থেকেই নতুন করে সংক্রমিত হচ্ছে, যা হাসপাতালগুলোর সংক্রমণ প্রতিরোধ ব্যবস্থার দুর্বলতা নির্দেশ করে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলেছেন যে, কেবল রাজধানীমুখী অতিরিক্ত চাপ তৈরি না করে স্থানীয় পর্যায়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা এবং সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয়ের সুব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলেই কেবল অপ্রয়োজনীয় মৃত্যু ঠেকানো সম্ভব।

এই ভয়াবহ স্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলায় সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন যে, বর্তমানে হামে আক্রান্ত শিশুদের প্রায় সবাই টিকাবিহীন অবস্থায় রয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও অবনতিশীল করেছে। এই সংকট নিরসনে আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত দেশব্যাপী ‘ইনটেনসিফাইড এমআর ক্যাচ-আপ ভ্যাকসিনেশন’ শীর্ষক একটি বিশেষ ও ব্যাপক টিকাদান কর্মসূচি শুরু হতে যাচ্ছে। এই কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী যেসব শিশু চলমান হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইনে টিকা পায়নি বা বাদ পড়েছে, তাদের খুঁজে বের করে টিকার আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি এই সময়ে ৬ মাস বয়সে পৌঁছানো নবজাতকদেরও টিকা প্রদান করা হবে। ডেঙ্গু চিকিৎসায় সরকারের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি রয়েছে এবং স্যালাইনের কোনো ঘাটতি নেই বলে দাবি করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান যে, জরুরি পরিস্থিতিতে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে মোবাইল হাসপাতাল ও সেনাবাহিনীর সহায়তা নেওয়ার ব্যবস্থাও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

হাম-ডেঙ্গুর সঙ্গে মৌসুমি ‘ফ্লু’, হাসপাতালে হিমশিম

সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৯:২৭:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশজুড়ে হঠাৎ করেই মশাবাহিত ডেঙ্গু এবং সংক্রামক হাম রোগের ভয়াবহ প্রকোপের সঙ্গে মৌসুমি ‘ফ্লু’-এর মারাত্মক আক্রমণে দেশের সামগ্রিক চিকিৎসাব্যবস্থা এবং বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোর সেবাসামর্থ্য চরম সংকটের মুখে পড়েছে। কুষ্টিয়া থেকে উন্নত চিকিৎসার আশায় দেড় বছরের শিশু রোজা ইসলামকে নিয়ে ঢাকার শিশু হাসপাতালে ছুটে আসা বাবা সিরাজুল ইসলামের আকুতি বর্তমান পরিস্থিতির এক নিদারুণ চিত্র ফুটিয়ে তোলে। নিউমোনিয়াসহ একাধিক জটিল ইনফেকশনে আক্রান্ত ওই শিশুর জন্য গত চার দিন ধরে বিভিন্ন হাসপাতালে ঘুরেও কোনো নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র বা আইসিইউ শয্যা না পাওয়ার ঘটনাটি রাজধানীতে শয্যাসংকটের তীব্রতা স্পষ্ট করে। শুধু শিশু হাসপাতাল নয়, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ রাজধানীর প্রধান সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোর বহির্বিভাগ এবং ওয়ার্ডগুলোতে রোগীর উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের পাঁচ তলার বারান্দাজুড়ে শতাধিক রোগী বেড পেতে চিকিৎসাসেবা নিতে বাধ্য হচ্ছেন, যেখানে হাম ও ডেঙ্গু ওয়ার্ডের একটি শয্যাও ফাঁকা নেই। শিশু ওয়ার্ডে রোগীর প্রচণ্ড ভিড় এবং অনেক ক্ষেত্রে অক্সিজেন সিলিন্ডারের সংকটের কারণে জটিল অবস্থার শিশুদের অন্যত্র রেফার করতে বাধ্য হচ্ছেন চিকিৎসকরা।

চলতি বছর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য ও হাসপাতালের নথি বিশ্লেষণে দেখা যায়, দেশজুড়ে হাম ও ডেঙ্গুর পরিস্থিতি অত্যন্ত আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত প্রায় ছয় মাস ধরে চলা হামের প্রাদুর্ভাবে শিশুদের ওপর এর মারাত্মক প্রভাব পড়েছে এবং মার্চ মাস থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত দেশজুড়ে হামে আক্রান্ত হয়ে এক হাজার ৬৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে কেবল আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে রোগী ভর্তির সংখ্যা পাঁচ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। অন্যদিকে, অগাস্ট মাস থেকে মারাত্মক রূপ নেওয়া ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে চলতি বছর এ পর্যন্ত ১৯০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে, যার মধ্যে শুধুমাত্র সেপ্টেম্বর মাসেই মারা গেছেন ৯৩ জন। ডেঙ্গু রোগী ভর্তির পরিসংখ্যানও উদ্বেগজনক; যেখানে জানুয়ারি মাসে ১ হাজার ৮১ জন ভর্তি হয়েছিল, সেখানে সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম তিন সপ্তাহে তা লাফিয়ে ২৭ হাজার ৭৮১ জনে দাঁড়িয়েছে। চলতি সেপ্টেম্বর মাসের এই ২১ দিনে হাম ও ডেঙ্গু মিলিয়ে মোট ১৮৩ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার অর্থ হলো প্রতিদিন গড়ে আটজনেরও বেশি মানুষ এই দুই রোগের কাছে হার মানছেন। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন যে, হাম ও ডেঙ্গুর প্রাথমিক লক্ষণ একই হওয়ায় রোগীরা সময়মতো রোগ নির্ণয় করতে পারছেন না, ফলে সামান্য দেরিতে হাসপাতালে আসার কারণে রোগীর শারীরিক অবস্থা দ্রুত জটিল আকার ধারণ করছে।

চিকিৎসকদের মতে, সাধারণ সিজনাল ফ্লু এবার ব্যাপক আকারে দেখা দেওয়ায় মানুষ আরও বেশি আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. নন্দিতা পালসহ বিশিষ্ট জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সামান্য জ্বর হলেই অবহেলা না করে তিন দিনের মধ্যে অবশ্যই ডেঙ্গু পরীক্ষা করাতে হবে এবং শিশুদের ক্ষেত্রে হামের লক্ষণগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজ উদ্যোগে অতিরিক্ত স্যালাইন গ্রহণ বা ভুল পদ্ধতিতে তরল পানের প্রবণতা রোগীর অবস্থাকে আরও সংকটাপন্ন করে তুলছে। চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গবেষণায় দেখা গেছে, হামে সংক্রমিত শিশুদের একটি বড় অংশ হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র থেকেই নতুন করে সংক্রমিত হচ্ছে, যা হাসপাতালগুলোর সংক্রমণ প্রতিরোধ ব্যবস্থার দুর্বলতা নির্দেশ করে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলেছেন যে, কেবল রাজধানীমুখী অতিরিক্ত চাপ তৈরি না করে স্থানীয় পর্যায়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা এবং সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয়ের সুব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলেই কেবল অপ্রয়োজনীয় মৃত্যু ঠেকানো সম্ভব।

এই ভয়াবহ স্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলায় সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন যে, বর্তমানে হামে আক্রান্ত শিশুদের প্রায় সবাই টিকাবিহীন অবস্থায় রয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও অবনতিশীল করেছে। এই সংকট নিরসনে আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত দেশব্যাপী ‘ইনটেনসিফাইড এমআর ক্যাচ-আপ ভ্যাকসিনেশন’ শীর্ষক একটি বিশেষ ও ব্যাপক টিকাদান কর্মসূচি শুরু হতে যাচ্ছে। এই কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী যেসব শিশু চলমান হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইনে টিকা পায়নি বা বাদ পড়েছে, তাদের খুঁজে বের করে টিকার আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি এই সময়ে ৬ মাস বয়সে পৌঁছানো নবজাতকদেরও টিকা প্রদান করা হবে। ডেঙ্গু চিকিৎসায় সরকারের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি রয়েছে এবং স্যালাইনের কোনো ঘাটতি নেই বলে দাবি করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান যে, জরুরি পরিস্থিতিতে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে মোবাইল হাসপাতাল ও সেনাবাহিনীর সহায়তা নেওয়ার ব্যবস্থাও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।