দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে দায়ের করা চাঞ্চল্যকর মামলায় জামায়াতে ইসলামীর বিতর্কিত ও বহিষ্কৃত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম এবং তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেছে পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার এসআই মো. শামসুজ্জোহা সরকার এই রিমান্ড আবেদন করেন এবং দুপুরের দিকে আসামিদের কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আদালতের হাজতখানায় নিয়ে যাওয়া হয়। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালতে এই রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
গত রোববার সন্ধ্যায় রাজধানী ঢাকার সংসদ ভবনের বিপরীত পাশে অবস্থিত ৫ নম্বর ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুলের ১৯ বছর বয়সী দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এই মর্মান্তিক ঘটনার পরপরই রাতেই সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় আত্মহত্যার প্ররোচনার জোরালো অভিযোগ এনে নিহতের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে এমপি নজরুল, তার স্ত্রী মাকছুদা এবং নিহতের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন। তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার ইবনে মিজান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সংসদ সদস্যকে গ্রেপ্তারের পুরো বিষয়টি ইতোমধ্যে জাতীয় সংসদের স্পিকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে মরিয়মের বাবা অভিযোগ করেছেন যে, গত জুনে ওবায়দুর রহমানের প্রত্যক্ষ প্ররোচনায় মরিয়মের সঙ্গে এমপি নজরুলের বিয়ে সম্পন্ন হয় এবং বিয়ের পর থেকেই ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাটে নজরুল ও মাকছুদার মাধ্যমে তিনি বিভিন্ন ধরনের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতেন। ঘটনার দিন বিকেলে নজরুলের ফোন পেয়ে মরিয়মের বাবা দ্রুত সেখানে গিয়ে মেয়ের ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান। এ সময় মরিয়মের বিছানার ওপর থেকে বেশ কয়েকটি সুনির্দিষ্ট সুইসাইড নোট বা চিরকুট উদ্ধার করা হয়, যেখানে তার তীব্র মানসিক যন্ত্রণার কথা, দীর্ঘ লড়াই এবং চরম হতাশার বহিঃপ্রকাশ ফুটে উঠেছে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ২০ জুলাই ঢাকার মগবাজারের একটি হোটেলে মরিয়মের সঙ্গে এমপি নজরুলের একটি অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। সে সময় জামায়াতের পক্ষ থেকে প্রথমে এটিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি বলে দাবি করা হলেও পরবর্তীতে নজরুল ইসলাম নিজেই ওই তরুণীকে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী বলে স্বীকার করেন। এই অনৈতিক ঘটনার জেরে সাংগঠনিক তদন্তে তার নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ায় গত ২২ জুলাই জামায়াতে ইসলামী তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে এবং বিরোধী দলের পক্ষ থেকে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনকে সেই সিদ্ধান্ত লিখিতভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়।


























