বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় এখনো বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম যথেষ্ট কম রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। সোমবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সহযোগী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে এক যৌথসভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের জেরে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে মারাত্মক অস্থিরতা তৈরি হওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, এই সংকটের মধ্যেও সরকার জ্বালানি খাতে নিয়মিত ভর্তুকি প্রদান করে যাচ্ছে।
দাম কিছুটা সমন্বয় করা হলেও সরকারকে বর্তমানে প্রতি লিটার ডিজেল ক্রয়ে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে এবং মূল্য সমন্বয়ের পরও প্রতি লিটারে প্রায় ৭০ টাকা করে লোকসান গুনতে হচ্ছে বলে তিনি সুনির্দিষ্ট হিসাব তুলে ধরেন। চলমান এই সংকট নিরসনে সরকার সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে রিজভী আরও অভিযোগ করেন যে, জ্বালানি সংকটকে কেন্দ্র করে দেশে একটি কুচক্রী মহল কৃত্রিম অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দেশের স্বাভাবিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও নাশকতার পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যার পেছনে পরাজিত স্বৈরাচারের প্রত্যক্ষ যোগসাজশ থাকতে পারে বলে দেশবাসী ও দলীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
সামাজিক উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন সরকারি উদ্যোগকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার নানামুখী ষড়যন্ত্র চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিরোধীদের কাছ থেকে বাস্তবসম্মত ও ইতিবাচক সমাধান প্রত্যাশা করা হলেও লংমার্চের নামে সরকার ও দলের বিরুদ্ধে যে ধরনের আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে, তা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এছাড়া প্রশাসনের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা ফ্যাসিবাদের দোসররা সুনির্দিষ্টভাবে নাশকতা বা স্যাবোটেজ করার অপচেষ্টা চালাতে পারে বলে তিনি গভীর সংশয় প্রকাশ করেন এবং গোপন কক্ষে বসে পরাজিত শক্তির সঙ্গে কেউ হাত মিলিয়েছেন কি না, সে বিষয়েও তীব্র প্রশ্ন তোলেন।






















