দীর্ঘ সময় জাতীয় দলের মূল একাদশের বাইরে থাকার পর লাল বলের ক্রিকেটে অসামান্য ও স্মরণীয় প্রত্যাবর্তনের রাজকীয় স্বীকৃতি পেলেন ইংলিশ পেসার অলি রবিনসন। ২০২৬ সালে মাত্র চারটি টেস্ট ম্যাচে অবিশ্বাস্য বোলিং করে ২৮টি উইকেট শিকারের মাধ্যমে ইংল্যান্ডের বর্ষসেরা ক্রিকেটার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ৩২ বছর বয়সী এই গতি তারকা।
গতকাল মঙ্গলবার লন্ডনের লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ডে জমকালো আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘ভাইটালিটি ক্রিকেট মিডিয়া ক্লাব অ্যাওয়ার্ডস’ অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁকে এই মর্যাদাপূর্ণ সম্মাননায় ভূষিত করা হয়। ইংল্যান্ডের সাবেক প্রবাদপ্রতিম অধিনায়ক বব উইলসের স্মৃতি ও নামে প্রবর্তিত এই বিশেষ বর্ষসেরা পুরস্কারটি নিজের ঝুলিতে পুরে নেন রবিনসন।
পরিসংখ্যান ঘেঁটে দেখা যায়, ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভারতের মাটিতে অনুষ্ঠিত রাঁচি টেস্টে খেলার পর দীর্ঘ দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে ইংল্যান্ড জাতীয় দলের বাইরে অবস্থান করছিলেন তিনি। সব অনিশ্চয়তা ও দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে চলতি ২০২৬ সালের জুন মাসে লর্ডসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচ দিয়ে পুনরায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অবিস্মরণীয় প্রত্যাবর্তন ঘটে রবিনসনের। সেই প্রত্যাবর্তন ম্যাচেই নিজের বোলিং বৈচিত্র্যে একাই ৭টি উইকেট তুলে নিয়ে ক্রিকেট বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেন তিনি।
পরবর্তীতে সফরকারী পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজেও একই ধারাবাহিকতায় একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেন এই ডানহাতি ফাস্ট বোলার। পুরো সিরিজে তিনি শিকার করেন মোট ২১টি উইকেট। তাঁর এমন নিয়ন্ত্রিত ও বিষাক্ত বোলিং আক্রমণের ওপর ভর করেই ইংল্যান্ড নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ঘরের মাঠে সফরকারী পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ জয়ের অনন্য স্বাদ লাভ করে।
সংক্ষিপ্ত এই গ্রীষ্মকালীন মৌসুমে নিউজিল্যান্ড ও পাকিস্তানের বিপক্ষে সব মিলিয়ে মাত্র ৪টি টেস্টে অবিশ্বাস্য ৯.৩২ গড় বজায় রেখে মোট ২৮টি উইকেট ঝুলিতে তোলেন অলি রবিনসন। আর এমন অলৌকিক ও ধারাবাহিক বোলিং পারফরম্যান্সই তাঁকে ইংলিশ ফুটবলের দেশে বছরের সেরা ক্রিকেটারের রাজকীয় মুকুট এনে দেয়।
বর্তমানে জাতীয় দলের আসন্ন আন্তর্জাতিক টেস্ট সূচিতেও ইংলিশ বোলিং আক্রমণের মূল কান্ডারি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের অপেক্ষায় রয়েছেন এই অভিজ্ঞ পেসার। সামনে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকা ও বাংলাদেশ সফরের পাশাপাশি ক্রিকেটের ঐতিহ্যবাহী দীর্ঘতম সংস্করণ ‘টেস্ট ক্রিকেট’-এর ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আয়োজিত ঐতিহাসিক বিশেষ টেস্ট সিরিজেও তাঁকে ঘিরে ক্রিকেটপ্রেমী ও টিম ম্যানেজমেন্টের আকাশচুম্বী প্রত্যাশা থাকবে।
এমন অসামান্য সম্মানজনক পুরস্কার হাতে পেয়ে নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে রবিনসন জানান, “এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার অর্জন করা আমার জন্য অত্যন্ত গর্বের ও সম্মানের একটি বিষয়। দীর্ঘ সময় জাতীয় দলের পরিমণ্ডলের বাইরে থাকার পর যেভাবে দলে ফিরে এসে এই বিশেষ গ্রীষ্মকাল কাটিয়েছি, তা সত্যিই আমার হৃদয়ে সারাজীবন অনন্য হয়ে থাকবে। মাঝের এই দীর্ঘ পথচলা মোটেও সহজ বা মসৃণ ছিল না। সে কারণেই এই স্বীকৃতিটি আমার কাছে অনেক বেশি অর্থবহ ও আবেগঘন। ইংল্যান্ডের জার্সি গায়ে জড়িয়ে আবারো দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে দারুণ লাগছে। আশা করছি, অদূর ভবিষ্যতেও দলের জন্য আরও বড় বড় সাফল্য নিয়ে আসতে পারব।”


























