মধ্যপ্রাচ্যে হুথিদের সাম্প্রতিক আক্রমণ এবং এর জেরে সৃষ্ট উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে হুমকি-পাল্টা হুমকির পরিবেশ তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন যে নির্দিষ্ট চুক্তিতে না এলে ইরানকে মারাত্মক অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে হবে কিংবা দেশটির নেতৃত্ব ক্ষমতা হারাতে পারে। তবে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের নিউইয়র্ক সফরকালে সাক্ষাতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। অন্যদিকে, ইরানের সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড পাল্টা সতর্কবার্তা উচ্চারণ করে জানিয়েছে যে যেকোনো নতুন ধরনের হামলা চালানো হলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও আঞ্চলিক মিত্রদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ও কঠোর প্রতিশোধমূলক আক্রমণ চালানো হবে।
পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী, যারা সম্প্রতি সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিকটবর্তী এলাকায় সফলভাবে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এর ফলে সৌদি আরবকে ইয়েমেন সংকটে সামরিক পদক্ষেপ বা প্রতিরক্ষামূলক কৌশলে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছে। অন্যদিকে, লোহিত সাগর ও সংলগ্ন বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে হুথিদের ক্রমবর্ধমান নিয়ন্ত্রণ এবং হরমুজ প্রণালিতে ইরানের অবরোধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও সামুদ্রিক বাণিজ্য বড় ধরনের বিঘ্নের শিকার হচ্ছে। গত জুন মাসে অর্জিত অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতি চুক্তি জুলাইয়ে এসে শর্ত সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ভেঙে যাওয়ার পর থেকে তা পুনরুজ্জীবিত করার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, তাদের নিজস্ব শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কৌশলগত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে এবং তেহরান একই সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা ও প্রতিরোধ লড়াই চালিয়ে যাবে।























