Dhaka ০৪:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

মুম্বাইয়ের শপিং মলে নামাজের স্থান ভেঙে দিলো হিন্দুত্ববাদী সংগঠন

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৭:৫৯:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
  • ২ বার দেখা হয়েছে

গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বজুড়ে ভারতের যে ভাবমূর্তি রয়েছে, মুম্বাইয়ের একটি শপিং মলে নামাজের স্থান গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় তা আরও একবার ধাক্কা খেয়েছে। একটি পরিচিত শপিং মলের ভেতরে তৈরি করা নামাজের ঘর বা প্রেয়ার রুমকে কেন্দ্র করে কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর তীব্র প্রতিবাদ এবং শেষ পর্যন্ত সেটি সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলার ঘটনা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

মহারাষ্ট্রের মুম্বাইয়ের মালাড এলাকায় অবস্থিত বিখ্যাত ‘ইনঅরবিট মল’-এ ঘটে যাওয়া এই ঘটনা সংখ্যালঘুদের প্রতি ক্রমবর্ধমান অসহিষ্ণুতার একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে সামনে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে আধুনিক ও সর্বজনীন পরিসরে থাকা একটি শান্তিপূর্ণ নামাজের স্থান কীভাবে ধ্বংস করা হতে পারে, এই ঘটনা তারই উদাহরণ।

বিতর্কের সূত্রপাত হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিওকে কেন্দ্র করে। ভিডিওতে দেখা যায়, হিজাব পরিহিত দুই তরুণী শপিং মলের ভেতরের প্রেয়ার রুমটি ঘুরিয়ে দেখাচ্ছে। তারা ক্যামেরার সামনে জানায়, মলের ভেতরেই নামাজ আদায়ের সুন্দর ও সুরক্ষিত ব্যবস্থা রয়েছে। সেখানে পুরুষ ও নারীদের নামাজের জন্য আলাদা কক্ষ এবং ওজু করার জন্য রয়েছে নির্দিষ্ট জায়গা বা ‘ওজুখানা’। শপিং করতে এসে কিংবা মলে দীর্ঘ সময় অবস্থান করলেও ধর্মপ্রাণ মানুষের নামাজ আদায়ে যাতে ব্যাঘাত না ঘটে, সেই ব্যবস্থার কথাই তুলে ধরেছিল ওই দুই কিশোরী। কিন্তু তাদের এই ভিডিওই যে এত বড় বিতর্কের কারণ হয়ে দাঁড়াবে, তা হয়তো কেউ ভাবেনি।

ভিডিওটি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়তেই ভারতের বিভিন্ন ডানপন্থি ব্যক্তি ও কট্টরপন্থি হিন্দু সংগঠনের সদস্যরা ক্ষোভ প্রকাশ করতে শুরু করেন। বিশেষ করে ‘সকল হিন্দু সমাজ’ নামের একটি হিন্দুত্ববাদী সংগঠন গত ৩০ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) ভিডিওটি শেয়ার করে তীব্র আপত্তি জানায়।

তাদের অভিযোগ ছিল, বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের যাতায়াত রয়েছে এমন একটি পাবলিক শপিং মলে কেন শুধু নামাজের জন্য আলাদা জায়গা থাকবে? সংগঠনটি আরও প্রশ্ন তোলে, মুম্বাই কি ধীরে ধীরে পাকিস্তানে পরিণত হচ্ছে? নাকি এটি একটি ‘সফট ইসলামিক ছিটমহল’ হয়ে ওঠার পথে? মলের ভেতরে হিন্দুরা চাইলে একইভাবে নিজেদের ধর্মীয় উপাসনা করতে পারবেন কি না, সেই প্রশ্নও তোলে তারা। এরপর প্রেয়ার রুমটি সরিয়ে ফেলার দাবিতে মল চত্বরে বিক্ষোভ শুরু করে সংগঠনটির সদস্যরা। লাগাতার চাপ, বিক্ষোভ ও হুমকির মুখে শেষ পর্যন্ত নামাজের স্থানটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

মুম্বাইয়ের শপিং মলে নামাজের স্থান ভেঙে দিলো হিন্দুত্ববাদী সংগঠন

সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৭:৫৯:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বজুড়ে ভারতের যে ভাবমূর্তি রয়েছে, মুম্বাইয়ের একটি শপিং মলে নামাজের স্থান গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় তা আরও একবার ধাক্কা খেয়েছে। একটি পরিচিত শপিং মলের ভেতরে তৈরি করা নামাজের ঘর বা প্রেয়ার রুমকে কেন্দ্র করে কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর তীব্র প্রতিবাদ এবং শেষ পর্যন্ত সেটি সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলার ঘটনা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

মহারাষ্ট্রের মুম্বাইয়ের মালাড এলাকায় অবস্থিত বিখ্যাত ‘ইনঅরবিট মল’-এ ঘটে যাওয়া এই ঘটনা সংখ্যালঘুদের প্রতি ক্রমবর্ধমান অসহিষ্ণুতার একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে সামনে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে আধুনিক ও সর্বজনীন পরিসরে থাকা একটি শান্তিপূর্ণ নামাজের স্থান কীভাবে ধ্বংস করা হতে পারে, এই ঘটনা তারই উদাহরণ।

বিতর্কের সূত্রপাত হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিওকে কেন্দ্র করে। ভিডিওতে দেখা যায়, হিজাব পরিহিত দুই তরুণী শপিং মলের ভেতরের প্রেয়ার রুমটি ঘুরিয়ে দেখাচ্ছে। তারা ক্যামেরার সামনে জানায়, মলের ভেতরেই নামাজ আদায়ের সুন্দর ও সুরক্ষিত ব্যবস্থা রয়েছে। সেখানে পুরুষ ও নারীদের নামাজের জন্য আলাদা কক্ষ এবং ওজু করার জন্য রয়েছে নির্দিষ্ট জায়গা বা ‘ওজুখানা’। শপিং করতে এসে কিংবা মলে দীর্ঘ সময় অবস্থান করলেও ধর্মপ্রাণ মানুষের নামাজ আদায়ে যাতে ব্যাঘাত না ঘটে, সেই ব্যবস্থার কথাই তুলে ধরেছিল ওই দুই কিশোরী। কিন্তু তাদের এই ভিডিওই যে এত বড় বিতর্কের কারণ হয়ে দাঁড়াবে, তা হয়তো কেউ ভাবেনি।

ভিডিওটি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়তেই ভারতের বিভিন্ন ডানপন্থি ব্যক্তি ও কট্টরপন্থি হিন্দু সংগঠনের সদস্যরা ক্ষোভ প্রকাশ করতে শুরু করেন। বিশেষ করে ‘সকল হিন্দু সমাজ’ নামের একটি হিন্দুত্ববাদী সংগঠন গত ৩০ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) ভিডিওটি শেয়ার করে তীব্র আপত্তি জানায়।

তাদের অভিযোগ ছিল, বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের যাতায়াত রয়েছে এমন একটি পাবলিক শপিং মলে কেন শুধু নামাজের জন্য আলাদা জায়গা থাকবে? সংগঠনটি আরও প্রশ্ন তোলে, মুম্বাই কি ধীরে ধীরে পাকিস্তানে পরিণত হচ্ছে? নাকি এটি একটি ‘সফট ইসলামিক ছিটমহল’ হয়ে ওঠার পথে? মলের ভেতরে হিন্দুরা চাইলে একইভাবে নিজেদের ধর্মীয় উপাসনা করতে পারবেন কি না, সেই প্রশ্নও তোলে তারা। এরপর প্রেয়ার রুমটি সরিয়ে ফেলার দাবিতে মল চত্বরে বিক্ষোভ শুরু করে সংগঠনটির সদস্যরা। লাগাতার চাপ, বিক্ষোভ ও হুমকির মুখে শেষ পর্যন্ত নামাজের স্থানটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।