কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ইনানী সমুদ্রসৈকতসংলগ্ন এলাকায় একটি গভীর নলকূপ খনন করার সময় ভূগর্ভের তলদেশ থেকে তীব্র বেগে বের হওয়া প্রাকৃতিক গ্যাসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মাটির নিচে প্রায় ১ হাজার ফুট গভীর পর্যন্ত খননকাজ চালানোর পর গত ২৭ অক্টোবর আকস্মিকভাবে এই ঘটনা ঘটে। অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনে আপাতত গ্যাসটিকে মুক্তভাবে বাতাসে নির্গত হতে দিয়ে আগুন জ্বলার সুযোগ রাখা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলা সূত্রে জানানো হয়েছে, সার্বিক পরিস্থিতি ভৌগোলিক নিয়মে স্বাভাবিক থাকলে আনুমানিক আগামী ১৫ দিনের ব্যবধানে আগুনের এই প্রবাহ বা তীব্রতা ধীরে ধীরে কমে আসতে পারে।
গতকাল রোববার (১ নভেম্বর) বিকেলে পেট্রোবাংলার জনসংযোগ বিভাগ থেকে সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিশেষ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের ছোট ইনানী সেতুর পাশেই মূলত একটি গভীর নলকূপ খনন করার কাজ চলছিল। সেখান থেকে গ্যাস নির্গত হয়ে আগুন লাগার খবর পাওয়ার পরপরই বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানির (বাপেক্স) দুজন অভিজ্ঞ ভূতত্ত্ববিদকে জরুরি ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। বাপেক্সের এই বিশেষজ্ঞ দল বর্তমানে কক্সবাজারে উপস্থিত থেকে সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।
পেট্রোবাংলা আরও জানায়, কারিগরি ও ভূতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞদের সুনির্দিষ্ট পরামর্শ অনুযায়ী আশেপাশের এলাকায় যেন কোনোভাবে আগুন ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সেজন্য নিশ্চিত নিরাপত্তার তাগিদে গ্যাস মুক্তভাবে বের হতে দেওয়া হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, আনুমানিক আগামী ১৫ দিনের মধ্যে মাটির নিচের সঞ্চিত গ্যাসের প্রবাহ ক্রমান্বয়ে স্বাভাবিকেই কমে আসবে। তবে যদি এই নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে আগুনের তীব্রতা না কমে, তবে বিশেষজ্ঞ দলের মাধ্যমে বিকল্প কারিগরি ব্যবস্থা গ্রহণ করে আনুষ্ঠানিকভাবে অগ্নিনির্বাপণ এবং ভূগর্ভস্থ গ্যাসের প্রবাহ পুরোপুরি বন্ধ করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ও জনস্বার্থের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বর্তমানে অকুস্থলের চারপাশের ১০০ মিটার সীমানার মধ্যে সর্বসাধারণের অনাকাঙ্ক্ষিত প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এলাকাটিতে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বিধান রাখতে স্থানীয় জেলা ও উপজেলা প্রশাসন পর্যাপ্ত প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে। একই সাথে পেট্রোবাংলা, বাপেক্স এবং স্থানীয় প্রশাসন একটি যৌথ টিম গঠন করে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি তদারকি করছে।
অন্যদিকে, এই আকস্মিক ঘটনার সূত্র ধরে উক্ত স্থানে ভূগর্ভস্থ প্রাকৃতিক গ্যাসের সম্ভাব্য মজুত ও উপস্থিতি সঠিকভাবে নিরূপণ করতে ভূতাত্ত্বিক জরিপ এবং দ্বিমাত্রিক (২ডি) সাইসমিক জরিপসহ বেশ কিছু বড় ধরনের বৈজ্ঞানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম হাতে নেওয়া হচ্ছে।
উদ্ভূত এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে এলাকার স্থানীয় জনসাধারণকে অহেতুক আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে পেট্রোবাংলা। একই সাথে প্রশাসন নির্দেশিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা মেনে চলা এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত সকল কর্তৃপক্ষকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার বিশেষ অনুরোধ করা হয়েছে।






















