২০১১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তৎকালীন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর ঢাকা সফরকালে তিস্তা নদীর পানি বণ্টন নিয়ে একটি খসড়া চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সেই খসড়া চুক্তি আজও আলোর মুখ দেখেনি। অতীতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর অসম্মতিসহ নানা অজুহাত দেখানো হলেও এর পেছনে দীর্ঘমেয়াদী পানিবণ্টনের জটিল কৌশল কাজ করছে। অতীতে ১৯৯৬ সালের ফারাক্কা চুক্তির ক্ষেত্রেও দেখা গেছে, নির্দিষ্ট গ্যারান্টি ক্লজ ও নিয়মিত পর্যালোচনার অনুপস্থিতির কারণে সেটি বাংলাদেশের জন্য বড় এক সংকটে রূপ নিয়েছে। ভারত দীর্ঘ সময় ধরে নির্দিষ্ট মাত্রায় পানি প্রত্যাহার করে নেওয়ায় ফারাক্কা এখন উভয় দেশের জন্যই পরিবেশগত উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের বিশেষজ্ঞ ও নদীতীরবর্তী সাধারণ মানুষও এখন ফারাক্কা বাঁধের নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে সোচ্চার হচ্ছেন। অন্যদিকে, বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের জন্য তিস্তা নদীর পানি প্রবাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জীবনরেখা। উজানে গজলডোবা বাঁধসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের ফলে শুষ্ক মৌসুমে তিস্তায় পানির প্রবাহ শূন্যের কোঠায় নেমে আসে। এর ফলে নীলফামারী, রংপুর, কুড়িগ্রামসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলের সেচ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং বরেন্দ্র ও তিস্তা অববাহিকা অঞ্চলে মরুকরণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হচ্ছে।
তিস্তা অববাহিকার হাজার হাজার মানুষ জীবিকার জন্য সরাসরি এই নদীর ওপর নির্ভরশীল। নদীটি দেশের বিভিন্ন জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে যমুনা ও পরবর্তী সময়ে পদ্মার সঙ্গে মিলিত হয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে পানির ন্যায্য হিস্যা প্রাপ্তির অনিশ্চয়তা এবং দীর্ঘসূত্রতার কারণে তিস্তা চুক্তি বাস্তবায়নের পথ এখন অত্যন্ত দুর্গম হয়ে পড়েছে। ফলস্বরূপ, এই নদীর পানিসংকট নিরসনে কূটনৈতিক পর্যায়ে নতুন ও বাস্তবসম্মত বিকল্প ভাবার সময় এসেছে।






















