সুইজারল্যান্ডের আর্গাউ ক্যান্টনের স্টাইন এলাকায় রাইন নদীর তীর থেকে এক ব্যক্তির খণ্ডিত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় ৪৩ বছর বয়সী এক বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি নিহত বুরুন্ডির নাগরিকের সঙ্গে একই কক্ষে বসবাস করতেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ অক্টোবর নিহতের নিখোঁজ হওয়ার খবর তার পরিচিতজনেরা পুলিশকে জানান। পরদিন ২৫ অক্টোবর রাইন নদীর তীর থেকে লাশের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলটি তাদের বসবাসের আশ্রয়কেন্দ্রের কাছেই অবস্থিত ছিল।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, দেহকে কয়েকটি অংশে বিভক্ত করে আবর্জনার ব্যাগে ভরে রাইন নদীতে ও নদীতীরবর্তী এলাকায় ফেলে দেওয়া হয়েছিল। ফরেনসিক মেডিসিন ইনস্টিটিউট পরীক্ষার মাধ্যমে লাশের পরিচয় নিশ্চিত করে।
আর্গাউ ক্যান্টন পুলিশ এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করে। আশ্রয়কেন্দ্রের কয়েকজন বাসিন্দার আচরণ তদন্তকারীদের মনে সন্দেহ সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় আশ্রয়কেন্দ্র এবং লাশ উদ্ধারের আশপাশের এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়।
তদন্তে প্রাপ্ত আলামতের ভিত্তিতে ৪৩ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি নাগরিকের প্রতি সন্দেহ জোরালো হয়, যিনি নিহত ব্যক্তির সঙ্গে একই কক্ষে বসবাস করতেন। গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ঘটনায় রাইনফেলডেন-লাউফেনবুর্গ জেলা অ্যাটর্নি কার্যালয় হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে ফৌজদারি তদন্ত শুরু করেছে এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক রাখার আবেদন জানিয়েছে।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত ঘটনা, সময়ক্রম ও উদ্দেশ্য এখনো স্পষ্ট নয়। এ ঘটনার সঙ্গে রাজনৈতিক বা ধর্মীয় কোনো উদ্দেশ্য জড়িত থাকার প্রমাণ এখনো পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
তদন্ত চলাকালে সন্দেহভাজন ব্যক্তির মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্যগত সমস্যার কিছু লক্ষণ দেখা গেছে। তবে এসব সমস্যার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। আইনের দৃষ্টিতে আদালতে দোষী প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে নির্দোষ হিসেবে গণ্য করা হবে।























