ইরানের জাতীয় ভূখণ্ডে কোনো নতুন হামলা চালানো হলে তার পাল্টা জবাব দিতে তেহরান আর কোনো ‘রেড লাইন’ বা সীমাবদ্ধতা মানবে না বলে অত্যন্ত কঠোর ভাষায় সতর্কবার্তা দিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। আক্রমণকারীদের এবার ‘দুনিয়া কাঁপানো ধাক্কা’ দেওয়া হবে উল্লেখ করে তিনি শত্রুপক্ষকে চরম পরিণতির হুঁশিয়ারি দেন। একই সাথে ইতিপূর্বে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক আক্রমণকে প্রকাশ্যে স্বাগত জানানো এবং প্রশংসা করার তীব্র সমালোচনা করে তিনি জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎসের সাম্প্রতিক বক্তব্যের কড়া জবাব দেন।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক বিশেষ বার্তায় আব্বাস আরাঘচি তুলে ধরেন যে, বিগত বছরে যখন ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কর্তৃক বোমাবর্ষণ শুরু করা হয়, তখন জার্মান চ্যান্সেলর অত্যন্ত উদ্দীপনার সাথে তা সমর্থন করেছিলেন। তবে বর্তমানে উক্ত যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিশাল অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতির কথা তুলে ধরেছেন স্বয়ং চ্যান্সেলর। গত শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দক্ষিণ কোরিয়া সফরকালে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ফ্রিডরিখ মের্ৎস জানান যে, বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাত ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে ইউরোপের ইতোমধ্যে ১০০ বিলিয়ন ইউরোরও বেশি অর্থ ক্ষতি হয়েছে। সেই সাথে মের্ৎস আরও যোগ করেন, এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের দ্রুততম অবসান ঘটানোই ইউরোপের প্রত্যক্ষ অর্থনৈতিক স্বার্থের অনুকূলে কাজ করবে এবং যেকোনো সংকটের স্থায়ী সমাধান কোনো সামরিক শক্তি প্রয়োগে নয়, বরঞ্চ একমাত্র প্রত্যক্ষ সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমেই অর্জন করা সম্ভব।
জার্মান চ্যান্সেলরের এই অবস্থান পরিবর্তনের তীব্র প্রতিক্রিয়ায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি দিয়ে ব্যক্ত করেন যে, যদি আবার ইরানের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন কিংবা সে দেশের জনগণের কোনো রূপ ক্ষয়ক্ষতি সাধনের অপচেষ্টা করা হয়, তবে তেহরানের পক্ষ থেকে যে প্রলয়ংকারী জবাব প্রদান করা হবে—তার সামনে ইউরোপের বিদ্যমান ১০০ বিলিয়ন ইউরোর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অত্যন্ত তুচ্ছ ও নগণ্য বলেই গণ্য হবে। এর আগে গত জুন মাসে কানাডায় আয়োজিত জি-৭ সম্মেলনে মের্ৎস ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর হামলার স্বপক্ষে সাফাই গেয়ে বলেছিলেন যে, ইউরোপের হয়ে ইসরায়েল সেই ‘কঠিন ও নোংরা দায়িত্বটি’ সফলভাবে সম্পন্ন করে দিয়েছে। ইরান সরকারের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করা হচ্ছে যে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি ও স্থানীয় রাজনীতি নিয়ে জার্মানি এবং পশ্চিমাদের নীতিগত টানাপোড়েন বিদ্যমান এবং তারা বেআইনি মার্কিন-ইসরায়েলি সামরিক আগ্রাসনে উসকানি জুগিয়ে আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা বৃদ্ধি করছে।























