অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বাহিনীর ড্রোন হামলায় দুই ফিলিস্তিনি নাগরিক নিহত হয়েছেন। শনিবার (৩১ অক্টোবর) গাজার মধ্যবর্তী অঞ্চলে পরিচালিত ড্রোন হামলায় এক তরুণ নিহত হন এবং ইতিপূর্বে আহত অপর একজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রাণ হারান। অপরদিকে, অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরন শহরে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান টানা নবম দিনে পদার্পণ করেছে, যেখানে কঠোর সামরিক অবরোধ ও ধ্বংসাত্মক তাণ্ডবের মুখোমুখি হয়ে আনুমানিক ৫ হাজার ফিলিস্তিনি নাগরিক বাস্তুচ্যুত হতে বাধ্য হয়েছেন।
মধ্য গাজার আল-আওদা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরের উত্তরাংশের একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সন্নিকটে ড্রোন হামলায় জিয়া আবু আল-রুস নামের এক তরুণ প্রাণ হারিয়েছেন। অন্যদিকে, গাজা সিটির তাল আল-হাওয়া এলাকায় একটি যানবাহন লক্ষ্য করে পরিচালিত আগের এক ড্রোন হামলায় গুরতর আহত আরাফাত নামের এক ব্যক্তি শনিবার ভোরে আল-শিফা হাসপাতালে মারা যান। আন্তর্জাতিক যুদ্ধবিরতির তোয়াক্কা না করে ইসরায়েলি বাহিনী উত্তরের বেইত লাহিয়া, গাজা সিটি ও দক্ষিণের খান ইউনিসে ধারাবাহিক গোলাবর্ষণ চালিয়েছে। এছাড়া গাজা সিটির উপকূলীয় এলাকায় ইসরায়েলি যুদ্ধজাহাজ থেকে ভারী মেশিনগানের গুলি বর্ষণ এবং খান ইউনিসের আল-ইকলিমি অঞ্চলে আশ্রয় নেওয়া বাস্তুচ্যুতদের তাঁবু লক্ষ্য করে সেনা যান থেকে গুলিবর্ষণের খবর পাওয়া গেছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি চালুর পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত সর্বমোট ১ হাজার ৫৭৪ জন নিহত হয়েছেন।
অন্যান্য ঘটনার পাশাপাশি অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরনে তীব্র সামরিক চাপ অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েলি বাহিনী। গত শুক্রবার রাতে সংস্থাটি আইন দাইর বাহা এলাকাকে ‘বদ্ধ সামরিক এলাকা’ হিসেবে ঘোষণা করে মাইকিংয়ের মাধ্যমে সর্বসাধারণের চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। অতঃপর স্থানীয় বেশ কিছু বাসাবাড়িতে অভিযান চালিয়ে বহু সংখ্যক তরুণকে গ্রেপ্তার করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয় এবং হামুদা ও আহমেদ আল-জাআবা নামের দুই ফিলিস্তিনির আবাসন বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এর পাশাপাশি জলপাই সংগ্রহের মৌসুমে ফিলিস্তিনি কৃষকদের ওপর উগ্র ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের আক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে; শুক্রবার তেল রুমাইদায় জলপাই তুলতে গিয়ে তাঁদের হামলায় পাঁচ কৃষক আহত হন এবং উৎপাদিত ফসল ছিনতাই হয়। হেবরন পৌরসভার ভাষ্যমতে, চলমান ৯ দিনের অভিযানে ৭৮০টি পরিবারের প্রায় ৫ হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন এবং কঠোর সামরিক অবরোধের কারণে ৬৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৩ হাজার শিক্ষার্থীর নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম পুরোপুরি স্থবির হয়ে গেছে।























